বাঁশখালীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের আগমন উপলক্ষে বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেই রাতারাতি নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিকসলিং সড়ক। সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার প্রধান সড়ক সংলগ্ন এই বিদ্যালয়ের মাঠে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মঙ্গলবার বিকেলে বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জয়ন্তী কর্ণার, স্যানিটারি নেপকিন ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় যোগ দেয়ার কথা। প্রধান সড়কের সাথে স্কুলের প্রধান ফটক লাগোয়া হলেও ডিসিকে বহনকারী গাড়ী যাতে কাঁদা না মাড়িয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য গভীর রাতে বৃষ্টির মধ্যেই এই সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। সকালে বিদ্যালয়ে এসে সড়কটি দেখে অনেক শিক্ষার্থীও অবাক হয়ে যান। এছাড়া অনুষ্ঠানে ডিসিকে বরণ করতে শতাধিক ছাত্রীকে দুপুরের খাবার না দিয়েই সকাল থেকে দাঁড়িয়ে রাখায় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা দুপুরে কিছুই খাইনি। নিজের টাকায় নাস্তা কিনে খেয়েছি। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি ডিসি স্যারকে বরণ করতে।’ বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোতষ দাশ বলেন, ‘মাঠে কাঁদা থাকায় ডিসি মহোদয়ের গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না, তাই অস্থায়ীভাবে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটি আমরা করিনি, তারা (প্রশাসন) করেছে। আপনারা আমার স্কুলকে কালারিং করবেন না।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক ব্যক্তি জানান, সোমবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেও ৩৩ জন শ্রমিক এই সড়কটির নির্মাণ কাজ করে। সড়ক নির্মাণে প্রায় ১৩ হাজার ইট ও ২০ ট্রাক বালি ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রমিকের মজুরীসহ যার আনুমানিক ব্যয় তিন লক্ষাধিক টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে বলেই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটি খেলার মাঠের মাঝখানে করা হয়নি। এই সড়ক নির্মাণে কোন ব্যয় হয়নি। প্রজেক্টের মাধ্যমেই কাজটি করা হয়েছে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
