জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আট ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কৃষকেরা পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না। ফলে পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাট চাষীরা। বর্ষার মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও বন্যা না হওয়ায় খাল-বিল, ডোবা ও নালায় পর্যাপ্ত পানি না জমায় ঠিকমতো পাট জাগ দিয়ে পচানো যাচ্ছে না। কৃত্রিম উপায়ে ডোবা ও নালায় সেলো মেশিন দিয়ে পানি সেচ ব্যবস্থা করে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে করে পাটের গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে এবং পাটের দাম কম পাওয়ার আশঙ্কায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। বেশিরভাগ চাষী এখনো পাট কাটা শুরু করেননি পানির অভাবে। চলতি বছরে উপজেলায় ৩ হাজার ২শ ৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করেছেন কৃষক। পাটের আবাদ বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ মণ হয়ে থাকে এবং দাম এবছরে ৩,৫০০ থেকে ৩,৮০০ টাকা। বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ২ বিঘা পাট চাষাবাদ করেছি। ভারী বৃষ্টির বন্যা না হওয়ার কারণে পাট কাটতে পারছি না। পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে, পাট কেটে না জাগ দিতে পারলে আবাদের খরচও উঠবে না।’ কৃষক আজগর আলী জানান, ‘এবছর পাটের দাম ভালো, ফলনও বাম্পার কিন্তু পাট জাগ দিতে কই সেই জায়গাই খুঁজে পাই না। জমিতে থেকে গাড়ি দিয়ে নিয়ে নদীতে জাগ দিতে হবে, তবে খরচ হবে অনেক। কী আর করব, আবাদ করেছি, জাগ দিতে হবে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, ‘চলতি বছরে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই, রোগবালাইও কম। পাট চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে, দামও ভালো। এ বছরে বৃষ্টি ও বন্যা না হওয়ায় খাল-বিল, ডোবা ও নালায় পানির অভাব পাট পচাতে সমস্যা হচ্ছে। চলতি বছরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পাটের চাষাবাদ হয়েছে ৩ হাজার ২শত ৪৫ হেক্টর।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
