আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে অতিভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। শনিবার রাত থেকে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর আগে গত দুই দিন থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার কলাপাড়ায় ৯৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে রাতভর টানা বর্ষণে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা।কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বড় নদী বিশেষ করে আগুনমুখা, রাবনাবাদ, তেঁতুলিয়া, পায়রা বেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। তীরে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। ছোট ছোট নৌ-যান বিশেষ করে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। আমাবশ্যা জোয়ের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চ জোয়ারে গত দু’দিনের ন্যায় রবিবারও প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। বেড়িবাঁধের বাইরের বসতবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর, আবাদি জমি ও সবজি ক্ষেত আজও প্লাবিত হয়েছে। স্লুইজগেট খোলা থাকা জোয়ারে পানি কিছু কিছু লোকালয়ে প্রবেশের সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে আউষ চাষাবাদ। সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে নীলগঞ্জে কৃষকদের। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় আগেভাগেই তীরে ফিরে এসেছে গভীর সাগরে মাছ শিকারী কয়েক হাজার ট্রলার। এসব ট্রলার দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের খাপড়াভাঙ্গা নদে আশ্রয় নিয়েছে।অস্বাভাবিক জোয়ার আর ঢেউয়ের তাণ্ডবে বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান ও ঝাউ বাগান। জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন হোসেনপাড়া এলাকার সড়কের ভেঙে যাওয়া রাস্তা দিয়ে আজও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে উভয় দিকে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঢেউয়ের তাণ্ডবে বালুক্ষয়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। ২২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙনের এই চিত্র। ডিসি পার্ক সংলগ্ন মেরিনড্রাইভ সড়কে উদ্বোধনের আগেই নতুন করে শুরু হয়েছে ভাঙন।আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা সহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলারসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
