‘আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সরাতে পেরেছি, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো রয়ে গেছে। এই কাঠামোর বিরুদ্ধে লড়াই সবার এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যবাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, ‘সামনের দিনগুলো হয়তো আরও কঠিন হতে পারে। আমরা একসঙ্গে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ব।’ জুলাই আন্দোলনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে গবি শিক্ষার্থীদের স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা শুনে আপ্লুত হয়েছি। পুলিশ যেভাবে গুলি চালিয়েছে, লাঠিপেটা করেছে—তা সহ্য করা কঠিন। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শুনে বলা যায় এই আন্দোলন কেবল তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষোভ নয়, বরং এটা একটি চিন্তাশীল, আদর্শনির্ভর প্রতিবাদ। রাজপথে শিক্ষার্থীদের অকুতোভয় সংগ্রাম প্রমাণ করে তাদের শিক্ষা, চেতনা ও সাহসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে।’অনুষ্ঠানে ফার্মেসী বিভাগের প্রভাষক তানিয়া আহমেদের সঞ্চালনায় কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের সংকট ও লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করেন। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে আহত হওয়া ৯ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও উত্তরীয় প্রদান করেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে বলেন, ‘দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করার সময় তাদের পাশে সর্বপ্রথম দাঁড়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গবি শিক্ষার্থীরা সর্বদাই সোচ্চার। ভবিষ্যতেও তাদের এ লড়াই জারি থাকবে বলে আশাকরি।’শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানের প্রবেশদ্বার সংলগ্ন শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে জানানো হবে।অনুষ্ঠানের সভাপতি কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদদের জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, ফিরে পেয়েছি বাকস্বাধীনতা। মুগ্ধ, আবু সাঈদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। সুন্দর দেশ গড়তে সকলের ভূমিকা রাখতে হবে।’পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাই আন্দোলনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
