বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দাফনের দুই মাস পর আদালতের নির্দেশে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম রিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফরিদপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে রিফাতের লাশ উত্তোলন করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদার এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম ও বাকেরগঞ্জ কাকরধা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এনামুলসহ পুলিশের একটি টিম।নিহত শিশু রিফাতের বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর ৮ মাস। স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন জেগে উঠেছে, কি অপরাধ করেছিল শিশুটি! তবে ওই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রিফাতকে নির্মমভাবে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেওয়ার ঘটনা শুনে।রিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রামের পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহত জাহিদুল ইসলাম রিফাত বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মোঃ শিপন মৃধার পুত্র ও চট্টগ্রাম মমতা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।মামলা সূত্রে ও নিহত শিশুর বাবা শিপন মৃধা জানিয়েছেন, তারা স্বামী-স্ত্রী চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি সুবাদে ইপিজেড এলাকার আকমল আলী রোডে আবুল খায়ের ম্যানশনে বাসা ভাড়া করে থাকেন। গত ১৭ মে বিকাল ৫টার দিকে তার পুত্র রিফাতকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী আহনাফ হাসান ওমর ফারুকের বাসায়। সেখান থেকে তাকে ফুসলিয়ে সাগর পাড়ে নিয়ে সাগরের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বেড়িবাঁধে ফেলে রেখে চলে যায়।ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খোঁজ পাওয়া যায় সাগর পারে রিফাত মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে পরদিন ১৮ মে বাকেরগঞ্জে নিজ গ্রামে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করেন।পরবর্তীতে একটি ভিডিও পাওয়া গেলে বিভিন্ন কানাঘুষা শোনা যায় রিফাতের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।এরপর হত্যাকারী আহনাফ হাসান রিফাত ও তার পিতা রেজাউল করিমকে মামলা মোকাদ্দমা না করার জন্য নিষেধ করে ও ভয়ভীতি দেখান। তখন তিনি বুঝতে পারেন রিফাতের মৃত্যুটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তার পুত্রকে হত্যা করা হয়েছিল।পরে এ ঘটনায় তিনি পুত্রকে হত্যার জন্য চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২২ মে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে নিহতের লাশ বৃহস্পতিবার উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন চট্টগ্রাম পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক হানিফ জানান, নিহতের পিতা শিপন মৃধা চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যার মামলা নং- ২৩১।উক্ত মামলায় আদালতের নির্দেশে জাহিদুল ইসলাম রিফাতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।চট্টগ্রাম পিবিআই-এর ইনভেস্টিগেশন তদন্তকারী কর্মকর্তা হানিফ আরো বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করি। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আমরা যথাযথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।নিহত শিশুর পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে মায়ের কোল থেকে আরো অনেক রিফাত বেঁচে ফিরবে না।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
