ঘরের বড় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিবে, তাতে বাবার আনন্দের কোন কমতি ছিল না। বাবার অনেক বড় শখ ছিল, মেয়ে বড় হয়ে পড়ালেখা করে ব্যারিস্টার হবে। কিন্তু মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক এক সপ্তাহ আগে নির্মমভাবে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে খুন হন বাবা। বাবার মৃত্যুর শোক নিয়ে অনেক কষ্ট করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। পরীক্ষার রেজাল্টে কৃতিত্বের সাথে ভালো ফলাফল করি। কিন্তু পরিবারে নেই কোন আনন্দ।ক্ষণে ক্ষণে মনে করে দেয়, আজ যদি বাবা থাকতো, কতইনা আনন্দ হতো। যে বাবা মেয়েকে নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখতেন, সেই বাবা আজ বুকে মাটিচাপা দিয়ে শুয়ে আছেন কবরে। বর্তমানে যেখানে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে বাবার স্বপ্ন পূরণে পড়ালেখা করা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়। অনেকটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে আমাদের পরিবার ও ভাই-বোনের পড়ালেখা। এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিনের মেয়ে নাহিমা আক্তার।সে আরো বলে, ‘দলের দুঃসময়ে আমার বাবার ৩০ থেকে ৩৫ টি মামলা ছিল। গ্রেফতারের ভয়ে কখনো রাতে ঘুমাতে পারতেন না ঘরে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, দলের দুর্দিনে আমার বাবা মামলা নিয়ে ঘুরছিলেন, কিন্তু দলের সুসময়ে আমার বাবাকে গত ২৬ শে মার্চ সন্ধ্যায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ নিহত নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মোমেনা আক্তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার তিন সন্তান। তার মধ্যে দু’মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান। কিন্তু একমাত্র ছেলেটাও প্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের মুখে তিন বেলা অন্ন তুলে দিতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার বড় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পরও একটু আনন্দ নেই আমাদের মাঝে। মেয়েকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আজ তার মৃত্যুতে আমার পরিবার ও ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার ঘোর অন্ধকারে।’এদিকে সন্তান হারানো শোকে নাসির উদ্দিনের মা রোশনা আক্তার অনেকটা পাগলপ্রায়। হারিয়ে ফেলেছেন মানসিক ভারসাম্য। শুধু চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি আর বলতে থাকেন, ‘আমার নাছির আছে। বাহিরে গেছে, কিছুক্ষণ পরে চলে আসবে।’নাসির উদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘দলে দুঃসময়ে আমার ভাই ৩০ থেকে ৩৫ টা মামলা মাথা নিয়ে পালিয়ে বেড়াতো। কিন্তু দলের সুসময়ে আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এটা খুব দুঃখজনক। কিভাবে চলবে তাদের সংসার, কিছুই বুঝতে পারছি না। তার মধ্যে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচ। বড় মেয়েকে অনেক স্বপ্ন ছিল আমার ভাইয়ের। পড়ালেখা করিয়ে ব্যারিস্টার বানাবে। আজ সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। যেখানে ভাবি সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে, সেখানে কিভাবে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা করাবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
