মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা, হঠাৎ অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। আর তাতেই বাড়ির উঠানে ছোট্ট আনিশার জন্য অপেক্ষায় থাকা স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের কুনিয়া গ্রামে দাফন করা হয় রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ফাতেমা আক্তার আনিশাকে (৯)।নিহত আনিশা কুয়েতপ্রবাসী বনি আমিন ও রূপা দম্পতির মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। মায়ের সঙ্গে তারা ঢাকাতে বসবাস করতেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই দেশে ফিরেছেন বনি আমিন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আনা হয় আনিশার মরদেহ। বাড়ির উঠানে আনিশাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেছে স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আনিশা, আনিশা বলে বিলাপ করতে থাকেন তার মামা লিওন মীর। পাশেই আহাজারি করছিলেন চাচি মুক্তা বেগম। বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, ‘ফাতেমা বলত, ও বড় হয়ে ডাক্তার হবে, আমাদের চিকিৎসা করবে। কত গল্প করত আমাদের সঙ্গে। এক মুহূর্তে সব শেষ।’ পরে সাড়ে ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী কুনিয়া কওমী মাদরাসা মাঠে নামাজে জানাজা হয় আনিশার। জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ দিকে একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোকে নির্বাক মা-বাবা। তারা কারোর সঙ্গে কথা বলছেন না। ছোট দুই ছেলেকে সামলাচ্ছেন স্বজনরা।আনিশার ফুফু ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘ঢাকার সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওকে খুঁজে পাই। এরপর ওখানে থেকে আমরা রাত তিনটার দিকে মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেই।’তিনি আরও বলেন, ‘কাল (সোমবার) ওর স্কুল ছুটি হয়ে গেছিল, কিন্তু কোচিংয়ের জন্য সে অপেক্ষা করছিল। আজকে সে লাশ হয়ে বাড়িতে এলো।’এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
