আমেরিকা গিয়ে লেখাপড়া করে দেশে ফিরে তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করব। আমি অনেক বড় কিছু হতে চাই। ছেলের কথাগুলি বলেই বিলাপ করে কাঁদছেন মেধাবী তানভীর আহমেদের মা লিপি বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধন কোথায় চলে গেল। তোমরা আমার কলিজার টুকরাকে ফিরিয়ে দাও।’সোমবার ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের তানভীর আহমেদ নিহত হয়েছে। সে ওই কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার সময় তানভীর কোচিং ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। তানভীর আহমেদ মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম নয়াপাড়া গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে। জানা যায়, রুবেল মিয়া তার স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে প্রায় দশ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি এলাস্টিক ব্যবসায়ী। তার বড় ছেলে তানভীর আহমেদ উত্তরা দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণি এবং ছোট ছেলে তাশফিক আহমেদ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তানভীর নার্সারি থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছিল। সোমবার দুই ভাই একসাথে কলেজে যায়। ছুটির পর তাশফিক বাসায় গেলেও তানভীর কোচিং ক্লাসের জন্য কলেজে থেকে যায়। সহপাঠীদের সাথে কোচিং ক্লাসের জন্য ক্যাম্পাসে অপেক্ষামান ছিল। এমন সময় বিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তার শরীর পুড়ে যায়। অন্যদের সাথে তানভীরকেও উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তানভীরের পরিবারের সদস্যরা বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে তার খোঁজ নিতে কলেজে যান। সেখানে তাকে না পেয়ে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ইউনিটে গিয়ে তারা তানভীরের লাশ শনাক্ত করেন। রাতেই তানভীরের লাশ আনা হয় গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম নয়াপাড়া গ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আন্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তানভীরকে দাফন করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম আরিফুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, জেলা জামায়াত ইসলামীর শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ তালুকদার, উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর ইয়াহইয়া খান মারুফ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফরিদ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে তানভীরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বাবা রুবেল ছেলে হারানোর কষ্টে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে। মা লিপি বেগম বিলাপ করে কাঁদছেন আর ছেলের বিভিন্ন স্মৃতির কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সব ক্লাসেই প্রথম হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয়েই এ প্লাস পেয়েছে। স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে ছিল তার সক্রিয় অংশগ্রহণ। সব শিক্ষকের কাছে আমার ছেলে ছিল প্রিয় মুখ।’ তানভীরের পরিবারকে শান্তনা দিতে এলাকার লোকজন রাত থেকেই ওই বাড়িতে ভীড় জমায়। পুরো গ্রামে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তানভীরের ফুপু জেলেখা বেগম বলেন, ‘ছুটির সময় গ্রামের বাড়িতে আসলেই তানভীর আমাদের বাড়িতে যেত। দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলত, ফুপু আমি আসছি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
