জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চর বাহাদুরাবাদ গ্রামের আজিজুলপুর টু বাহাদুরাবাদ খেওয়া ঘাট পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরমভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাটির করুণ দশা, যা এখন কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। একটু বন্যা হলে রাস্তাটি ডুবে যায় পানিতে; তখন চলাচল নৌকা দিয়ে করেন গ্রামবাসী।রাস্তাটির স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন হয়নি। প্রতিবছরে কোনো রকম একটু করে মাটি ফেলিয়ে মেরামত হয়, কিন্তু বৃষ্টি হলেই গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। খানাখন্দে ভরা এই অংশ দিয়ে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।জানা গেছে, উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চর বাহাদুরাবাদ চলাচলের আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হড়িচন্ডী, বৌ বাজার, দক্ষিণ হড়িচন্ডী, হাজিপাড়া, এবং উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি, মাঘরিহাট, সরকারপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম এবং বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের আজিজুলপুর, পন্ডিত পাড়া, গুপিনাদপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। নির্বাচনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস দিলেও রাস্তাটির উন্নয়ন হয়নি। অবহেলা ও অনাগ্রহের কারণে এখনও সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ জানান, এই রাস্তায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয় কাঁধে করে। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাও যায় না। রাত হলে বিপদ আরও বাড়ে। এভাবেই কাঁচা সড়কে চলাচলে ভোগান্তি। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। বছরের বেশির ভাগ সময়ই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে যায়।শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘বর্ষায় কাদায় হাঁটা তো দূরের কথা, পা ফেলার জায়গা থাকে না। স্কুলে যেতে পারি না, অনেক সময় পরীক্ষাও মিস করি।’ বন্যার পানিতে রাস্তা ডুবে যায়; তখন স্কুলে যেতে পারি না। তাই রাস্তাটি উঁচু করলে বন্যার পানি তে ডুবে যাবে না এবং বৃষ্টির পানি জমে থাকবে না। দ্রত রাস্তার মেরামত চাই।স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে রাস্তাটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কোনো ধরনের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন সময় নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেয়নি।স্থানীয় শিক্ষক হাবিল বলেন, তিন কিলোমিটার রাস্তায় যেন জনগণের কষ্ট আটকে আছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই এই কাঁচা রাস্তা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। অথচ এটি পাকাকরণে তেমন বড় কোনো প্রকল্প দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা ও অগ্রাধিকার।৫ম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী শিফাত জানান, প্রতিদিন আজিজুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাই এই রাস্তা দিয়ে। মাঝে মাঝে বৃষ্টির পানিতে গর্ত হয়ে পা পিছলে যায়; আবার হেঁটেও যাওয়া যায় না। এতে চরম বিপাকে পড়তে হয়।এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটির উন্নয়নকাজ শুরু করতে হবে। এই রাস্তাটি শুধু একটি গ্রামের পথ নয়, এটি ১০ গ্রামের মানুষকে শহরের যেতে হয়। অবহেলা করলে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়বে।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতাউর রহমান জানান, রাস্তাটির সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ খবর নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
