বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের বাধার অবসান চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি চাইছে তেল, গ্যাস, বীমা ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার যে সীমা আছে, তাদের ক্ষেত্রে যেন তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ঢাকার সঙ্গে শুল্কের দরকষাকষিতে এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ঢাকা ও ওয়াশিংটন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।সম্প্রতি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটনে। এতে দুই দেশের মধ্যে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তিতর্ক হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশ মোটামুটি একমত। তবে কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নায্যতা প্রত্যাশা করে। ফলে আবারও দুই দেশ আলোচনায় বসবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কিছু শিল্পে বিদেশি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম; সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনায়ন এবং যান্ত্রিকভাবে বনসম্পদ আহরণ; পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন এবং টাকা মুদ্রণ– এ চারটি ক্ষেত্র সরকারি বিনিয়োগের জন্য সংরক্ষিত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে জ্বালানি তেল বিপণন এবং গ্যাস বিতরণে পুরোপুরি বিদেশি মালিকানার অনুমতি দেয় না বাংলাদেশ। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগে বিদেশি মালিকানা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।  যুক্তরাষ্ট্রের এ শর্ত নিয়ে জানতে চাইলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাত যে কোনো দেশের জন্য সংবেদনশীল। এসব খাতের কিছু অংশ সরকার নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদি মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, সে ক্ষেত্রে কৌশলগত ঝুঁকি থাকে। আজ হয়তো শুল্ক বাড়িয়ে দাবি আদায়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন হয়তো সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে দাবি আদায় করবে। যে পণ্য ও সেবাগুলো পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, একটি দেশ, অন্য দেশকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র এখন জোরজবরদস্তি ও ব্ল্যাকমেইল করছে। একদিকে শুল্ক বাড়িয়ে চাপে ফেলে, অন্যদিকে বাড়তি সুবিধা চাচ্ছে। বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরন এখনও মাগুরছড়ার ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এগুলো নিয়ে সরকারের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। সরকার যদি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষি করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের পাওনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।শতভাগ মালিকানা হবে নাকি হবে না– সেটি পরের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি দেশের সুবিধা অনুযায়ী দেবে, এভাবে চাপিয়ে দেয় নাকি? প্রথমে দেখতে হবে জাতীয় সক্ষমতা, তারপর জাতীয় প্রতিষ্ঠান, এরপর দেশীয় প্রতিষ্ঠান, এর পর আসতে পারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিষয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ পেলে দেশে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপের মুখে থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।এদিকে বর্তমানে দেশের ১৭ খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদেশিদের মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। এগুলো হলো– বিমান চলাচল; ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান; কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং সরবরাহ; অপরিশোধিত তেল পরিশোধন; গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা; বীমা কোম্পানি; বৃহৎ পরিসরে অবকাঠামো প্রকল্প; বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিতরণ; স্যাটেলাইট চ্যানেল; সমুদ্রবন্দর এবং ভিওআইপি ও আইপি টেলিফোন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বৈষম্য বড় আকারে না হলেও সরকার সাধারণত স্থানীয় শিল্পগুলোকে সমর্থন করে। আমদানি ওষুধের অনুমোদন নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যদি তারা দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। নতুন শিপিং এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা থাকা আবশ্যক। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রায়ই স্থানীয় অংশীদার থাকা প্রয়োজন, যদিও এই প্রয়োজনীয়তা আইনিভাবে সংজ্ঞায়িত করা নেই।এদিকে তেল, গ্যাস, টেলিযোগাযোগ ও বীমার ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগের বাধা দূর করার পাশাপাশি মার্কিন যেসব বিনিয়োগ বাংলাদেশে রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত প্রত্যাবাসনের শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও বাংলাদেশে মার্কিন জ্বালানি খাতের কোম্পানি শেভরন, বীমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট, কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা, বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক এনএ, মাস্টারকার্ড, জেনারেল ইলেকট্রনিক্সসহ (জিই) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে। বিগত সরকার ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ আটকে যাওয়ার বিষয়টিতে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে, ডলার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ সালের পর থেকে মেটলাইফ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মুনাফার অর্থ পাঠাতে পারেনি। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ এ দেশে আটকে আছে। একইভাবে শেভরনও দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছ থেকে তাদের পাওনা বুঝে পাচ্ছে না।তবে বাংলাদেশে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থের প্রত্যাবাসন সংকট নিয়ে জানতে চাইলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, সরকার ইতোমধ্যে শেভরনের বকেয়া পরিশোধ করেছে। আর অন্য বিনিয়োগকারীদের নিজ অর্থ নিয়ে যাওয়া অনুমোদন দিয়েছে। এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী ক্ষণিকা বাসে হামলাকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।বিষয়টি Read more

বাঘাইছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো যুবকের
বাঘাইছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো যুবকের

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে মাঝিপাড়া ১৮ কিলো নামক এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একজন নিহত এবং আহত হয়েছেন দুইজন।মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে Read more

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, সম্পাদক মাজহারুল
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, সম্পাদক মাজহারুল

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ নয় বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে Read more

জয়পুরহাটে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ
জয়পুরহাটে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ভদ্রকালী Read more

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদন
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাজেট অনুমোদন

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।রবিবার (২২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা Read more

অক্টোবরে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ট্রাম্প: মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী
অক্টোবরে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ট্রাম্প: মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান-এর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন