নন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ২৮ বছর সুপার পদে চাকরি করেও এমপিওভুক্তির আলোর মুখ দেখেনি দারুস সালাম মাদ্রাসাটি। দারুস সালাম মাদ্রাসার সুপার বলেন, ‘১৯৯৭ সালে দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করি। আমি নিজেও ১৯৯৭ সালে এ মাদ্রাসার সুপার পদে চাকরিতে যোগদান করি। এখনো আমাদের মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়নি এবং নির্মাণ হয়নি মানসম্মত ভবন। আমি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে অবসরে যাচ্ছি। সারা জীবন চাকরি করে বেতন পেলাম না। এই আফসোস নিয়ে আমাকে জীবন কাটাতে হবে।’ মাদ্রাসাটির এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন এমপি ও মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ফিরে এসেছি। কারো কাছে কোন আশার বাণী শুনিনি। এভাবেই অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন মাদ্রাসার সুপার দারুস সালাম। তিনি যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কুরকী গ্রামে দারুল সালাম দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট পদে আছেন।দারুস সালাম আর শিক্ষক কর্মচারী একা নন, চৌহালী উপজেলার আরও ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর মতো কর্মরত শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীরা এমন কষ্টে আছেন। তাঁরা দ্রুত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে আরেক সুপার হযরত আলীও ক্ষোভ করে বলেন, ‘আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই সরকারের কাছে দাবি দ্রুত এমপিও মুক্ত করার।’ এছাড়াও তাঁরা ‘নন–এমপিও ঐক্য পরিষদ’–এর মাধ্যমে চৌহালী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে বলে জানান। দারুস সালাম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের সবার কষ্ট একই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। এ কারণে তাঁরা বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তাঁরা। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত নন–এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আর মরার আগে এমপিও দেখতে চান প্রতিষ্ঠানের সুপার ও প্রতিষ্ঠাতা দারুস সালাম।এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
