চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে অশোভন টিকটক ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ চলাকালীন সময় কিংবা বন্ধের পরে শিক্ষার্থী ও কিছু বহিরাগতরা মাঠে সংগীত ও নৃত্যের ছলে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও আচরণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনার ফলে কলেজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার দে জানান, ‘আমরা ইতিমধ্যে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছি। সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে।’কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেবপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা গতরাতে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা গেছে। আগামীকাল কলেজ চলাকালীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কিছু ছেলে-মেয়ে এবং বাইরের লোকজন কলেজ মাঠের পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি ও অপমানবোধ করছেন। তাদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিক, যাতে ভবিষ্যতে এমন কিছু না ঘটে।জান্নাতুন নাহার নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন ক্লাসে আসার সময় দেখি কয়েকজন ছেলে মোবাইল ক্যামেরা সেট করে ভিডিও বানাচ্ছে। তারা কলেজের ইউনিফর্মেই এসব করছে। বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করা।’এক অভিভাবক জানান, ‘আমরা সন্তানদের সুশিক্ষা দেয়ার আশায় কলেজে পাঠাই। কিন্তু যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপথে যাবে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।’স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রদল নেতা নুর শাহেদ খান রিপন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি যাচাই করে দেখেছি—ছেলেটির সাথে আমাদের সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এর সমাধানের পথ খুঁজে দেখব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে সচেতন করব।’শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দীন রাকিব জানান, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছি, তবে মেয়েটির সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কলেজের ফেসবুক গ্রুপে একটি নোটিশ দিয়েছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। আমরাও দেখছি রবিবারের মধ্যে কোনো সমাধান আসে কি না।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
