পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শালডাঙ্গা ইউনিয়নের কালুপীর ভাঙ্গার পাড় আদর্শ গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পের খাস পুকুর দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকাল ৩টায় আদর্শ গ্রামের পুকুরপাড়ে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে আশ্রয়ন প্রকল্পের অন্তত অর্ধ-শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।জানা যায়, ২০১৭ সালে গড়ে উঠা এই আশ্রয়ন প্রকল্পে শুরুতে ৫৬টি পরিবার থাকলেও বর্তমানে বসবাসকারী পরিবার রয়েছে ৩০টি। স্বাবলম্বী হতে প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই গ্রামের ২৭ শতক আয়তনের খাস পুকুরটিতে মাছ চাষ করে আসছিলেন আশ্রয়নের বাসিন্দারা। অভিযোগ আছে, ২০২০ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ সমর্থক দুলাল, আবুল গং পুকুরটি দখলে নেয়। পুকুর বেদখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরেও জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সেসময়।বাসিন্দারা আরও জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছর ৫ আগস্টের পর তারা পুনরায় পুকুরটি নিজেদের দখলে নেন। এরপর থেকেই তারা দখলদারদের হুমকি-ধামকির মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দখলদাররা তাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং পুকুরের পানি ব্যবহারেও বাধা দিচ্ছে। মানববন্ধনে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়ের দাবি জানান।এই বিষয়ে শালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুলালের যেটুকু জমি প্রয়োজন সেটুকু পুরোপুরি তার দখলে। তার পুকুর দাবি করাটা অযৌক্তিক। তাকে বাঁশ কেটে নিতে বলার পর বাঁশও কেটে নিয়েছেন। বেশ কয়েক মাস ধরে বিষয়টি চুপচাপ থাকলেও নতুন করে শুনছি দুলাল ইউএনও অফিসে অভিযোগ করেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দুলাল হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরুর সময় তৎকালীন ইউএনও আমাদের মালিকানাধীন ১৩ শতক জমি নেন। বিনিময়ে সে সময় এই পুকুরটিতে আমাদের মাছ চাষের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছর আগস্টের পর এলাকার কিছু ব্যক্তি পুকুরটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। সম্প্রতি ইউএনও উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানির পর পুকুর আমাদের দখলে রাখার রায় দেন।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো তৈরী করার সময় ঐ পুকুরটি খনন করা হয়েছিল। সে সময় দুলাল হোসেনের ১৩ শতক নিজস্ব জমি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরী করা হয়েছিল, বিনিময়ে পুকুরটি তাকে দেওয়া হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী ঐ পুকুরটি দুলাল হোসেনের। দুলাল তার দেওয়া ১৩ শতক জমি আশ্রয়ন প্রকল্পে লিখে দিবেন, এমনটাই সিদ্ধান্ত ছিল এবং সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
