সিরিয়ায় দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর সরকারি বাহিনীর অভিযানের জেরে দেশটির অন্তত ১৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, দ্রুজ নাগরিকদের অধিকার রক্ষা তার সরকারের ‘অগ্রাধিকার’। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সিরিয়ার জনগণ যুদ্ধকে ভয় পায় না।বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে আল শারা বলেন, দ্রুজ জনগণের অধিকার রক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের জাতীয় মর্যাদা হুমকির মুখে পড়লে আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। এর আগে, বুধবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু অংশ এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স।ইসরায়েল বলছে, সিরিয়ার সরকার যদি দ্রুজদের ওপর হামলা বন্ধ না করে এবং বাহিনী প্রত্যাহার না করে, তবে তারা সরকারি বাহিনীকে “ধ্বংস করে দেবে।” ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার বাহিনীকে তাদের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে অগ্রসর হতে দেবে না এবং ওই অঞ্চলের দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে।এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দ্রুজ নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় সোয়েইদা প্রদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে সরকার। তবে এই চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। গত রবিবার সোয়েইদা অঞ্চলে দ্রুজ মিলিশিয়া এবং বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জাতিসংঘ, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, এই সংঘাত দ্রুতই শেষ হবে। এদিকে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল থেকে শত শত দ্রুজ সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল এই সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
