কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের ‘বহিরাগত’ বলে মন্তব্য করায় শুরু হয়েছে উত্তেজনা, যা গড়িয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে। ফেসবুকে রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুসের করা একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ, উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কলেজ মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ ম্যুরাল, পরীক্ষা ভবন, অর্থনীতি ভবন ও কলা ভবনের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় কলা ভবনের মূল ফটকে এসে। মিছিলে ‘তুমি কে আমি কে, বহিরাগত বহিরাগত’—এই ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।জানা গেছে, কলেজে চলমান একদফা দাবির আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ‘বহিরাগত’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর একে একে আরও কয়েকজন শিক্ষক সেই পোস্টে মন্তব্য করে বিতর্ককে উসকে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তারা বারবার অধ্যক্ষের কাছে ৯ দফা দাবি নিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং তাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতি মনির হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. জাহিদুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ মো. আবুল বাসার ভূঁঞা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি এ পদে অযোগ্য ও অক্ষম। তাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার নামে তালবাহানা করে চলেছেন।এর আগে গত সোমবার ৯ দফা দাবি নিয়ে কিছু সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী কলেজ মসজিদে ঢুকে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকাল ১১টায় পাল্টা কর্মসূচি নেয় শিক্ষক পরিষদ। কলেজের ডিগ্রি শাখার প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান, বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মশিউর রহমানসহ আরও অনেকে।শিক্ষকরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষকে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে অবরুদ্ধ করা ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ। তারা দাবি করেন, একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এসব ঘটনার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। তাদের বক্তব্য, কোনো শিক্ষক বা অধ্যক্ষ অনিয়ম করলে তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু ছাত্রদের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।রসায়ন বিভাগের অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বর্তমানে কলেজের পরিবেশ চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে অনড়, অন্যদিকে শিক্ষকরা অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছেন।এমন স্নায়ু টানটান পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, কুমিল্লার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এখনই গঠনমূলক সমঝোতার বিকল্প নেই। অচিরেই উত্তেজনা প্রশমিত না হলে এটি বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
