ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা সদরে ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে ২৮ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে বিশেষভাবে নির্মিত নান্দনিক টি-স্টল হস্তান্তর করা হয়।উল্লেখ্য, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভালুকা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছিল চায়ের দোকান, খাবারের স্টলসহ অসংখ্য ছোট দোকান। এর ফলে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। এ পরিস্থিতি সমাধানে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে, যেখানে বেশ কিছু দোকানপাট সরিয়ে ফেলা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন বহু দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।তবে শুধু উচ্ছেদেই সীমাবদ্ধ না থেকে, উপজেলা প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু স্টিলের কাঠামোর নান্দনিক টি-স্টল। এসব স্টল মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শুধু দোকান দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়, আমরা চাই তারা নিয়ম মেনে, পথচারীদের অসুবিধা না করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।’উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ২৮টি স্টল ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি ফলের বাজার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফল বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর উদ্যোগ হিসেবে একটি হকার্স মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে যারা এখনো পুনর্বাসনের বাইরে রয়েছেন, তারাও সুযোগ পান।নতুন দোকান পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মোখলেছ উদ্দিন নামের একজন বলেন, ‘উচ্ছেদের পর আয়-রোজগার একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। এখন নতুন দোকান পেয়ে মনে হচ্ছে, আবার শুরু করার সুযোগ পেলাম। ইউএনও স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’আরেকজন দোকানদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো গরিব মানুষ। রাস্তায় দোকান করে পেট চালাতাম। এখন সুন্দর দোকান পেয়েছি। ভালোভাবে বসতে পারবো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে-এটাই আমাদের বড় পাওয়া।’চা বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই দোকানগুলো শুধু একটা কাঠামো না, এটা আমাদের জীবনের ভরসা। আমাদের দুঃসময়ে সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাই।’স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু মানবিক নয়, বরং শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও যানজট নিরসনের দিক থেকেও একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ। তবে শর্ত সাপেক্ষে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের এও জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই যেন এসব দোকান থেকে আবার ফুটপাত দখল না হয়।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
