সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাজারগুলোতে চড়া কাঁচা মরিচের দাম। কয়েকদিন আগেও যেটি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, এখন সেটিই মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।রোববার (১৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানিরা ৩০ থেকে ৪০ কেজি করে কাঁচা মরিচ পাইকারি কিনে এনে বিক্রি করতেন, এখন অতিরিক্ত দামের কারণে সেই খুচরা বিক্রেতাই মাত্র ১৫ থেকে ২০ কেজি মরিচ এনে বিক্রি করছেন।বিকেলে উপজেলার সোনামুখী হাটে বাজার করতে এসেছেন এনজিও কর্মী আব্দুল বারি। তিনি বলেন, ‘সবজির দাম বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। অনেকদিন ধরে কাঁচা মরিচের এমন উচ্চমূল্য দেখিনি। ১ কেজির জায়গায় ২৫০ গ্রাম কিনেছি।’বাজার করতে আসা দিনমজুর আব্দুর রহমান বলেন, ‘গত দুই হাট আগে মরিচ কিনছিলাম ৫০ টাকায় কেজি। আজকে দেখি আড়াইশো টাকা কেজি। কী খামু? কামাই কম, ২০ টাকার মরিচ কিনছি।’কাঁচা মরিচের বাড়তি দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই উৎপাদন কমেছে। দামও বেড়েছে।’সোনামুখী বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আলতাফ সরকার বলেন, ‘আগে অন্যান্য সবজির সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে কাঁচা মরিচ এনে বিক্রি করতাম। কিন্তু গত ৫-৬ দিন ধরে অতিরিক্ত কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সব বিক্রেতারা ৬ কেজি ১২ কেজি করে কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনে এখানে বিক্রি করছে।’ঢেকুরিয়া হাটের ব্যবসায়ী রহিম মোল্লা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছি ৪০ টাকায়, আজ সেটা বেড়ে ২৬০-২৮০ টাকা কেজি। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মরিচের বিক্রিও কমে গেছে আমাদের। তবে বৃষ্টি কমে গেলে মরিচের দাম আবারও কমে আসবে।’কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মরিচের খেত নষ্ট হয়েছে। গাছ মরে গেছে অনেকের। তাই উৎপাদন কমে গেছে। দাম কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টি কমলে মরিচের দাম আবার কমবে আশা করা যায়।’এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
