শরীয়তপুর জেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের মধ্য চররোসুন্দী গ্রামে ঘটেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। যমজ দুই ভাই বাইজিদ হাসান ও জিহাদ হাসান এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে একই ফলাফল—জিপিএ ৪.৭৮। শুধু তাই নয়, তারা প্রতিটি বিষয়ের নম্বরেও হুবহু এক, যা গ্রামে তো বটেই, জেলায়ও এক বিরল ঘটনা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।জন্মের মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে পৃথিবীতে আসা এই দুই ভাইয়ের পথচলা যেন এক সুরে বাঁধা। একসাথে জন্ম নেওয়া দুই ভাইয়ের চেহারা একই রকম। একসাথে স্কুলে যাওয়া, একই শিক্ষকের কাছে পড়া, একসাথে খেলাধুলা করা এবং একই দিনে একসাথে এসএসসি পরীক্ষায় বসা—সবকিছুতেই তারা এক ও অভিন্ন। এবার ফলাফলেও দেখা গেল সেই যমজত্বের বিস্ময়কর মিল।সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ৪৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কৃতকার্য হয়েছে ২৮ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ জিপিএ ৪.৭৮ পেয়েছে এই যমজ দুই ভাই—বাইজিদ ও জিহাদ। পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তারা উভয়েই ছয়টি বিষয়ে এ প্লাস, দুটি বিষয়ে এ এবং দুটি বিষয়ে এ মাইনাস পেয়েছে।এমন সাফল্যের পরও একটু খুশি আর একটু আক্ষেপও রয়েছে দুই ভাইয়ের। অল্পের জন্য এ প্লাস না পাওয়ায় মন কিছুটা খারাপ তাদের।বাইজিদ বলেন, ‘আমরা সবসময় একসাথে পড়েছি, একে অপরকে সাহায্য করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—ভবিষ্যতে মেরিন অফিসার হওয়া। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’জিহাদও জানান, ‘একসাথে পথচলার অভিজ্ঞতা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। আমরা চাই আমাদের সাফল্য দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হোক।’তাদের বাবা, কৃষক সাইদুর রহমান বয়াতি ও মা জুলেখা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, চাষাবাদ করে সংসার চালাই। ছেলে দুজনকে মানুষ করতে অনেক কষ্ট করি। ওরা যেভাবে পরিশ্রম করছে, আমরা চাই ওদের স্বপ্ন পূরণ হোক। সমাজের সহায়তা পেলে ছেলেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সুবিধা হবে।’সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন সিকদার বলেন, ‘এই দুই ভাইয়ের ফলাফল সত্যিই অভাবনীয়। একসাথে পরীক্ষায় বসে, একসাথে একই নম্বর পাওয়াটা খুব বিরল। ওরা আমাদের স্কুলের গর্ব। আমরা আশা করি, ওরা আরও ভালো করবে ভবিষ্যতে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
