ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কির বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাশিয়ার এ হামলায় এই হামলায় ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ৪০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরজুড়ে একাধিক বাড়িঘর, অফিস-আদালত, গুদামসহ বহু স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। আগুন ধরে গেছে বহু জায়গায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিতসচকো জানান, রুশ বিমান হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র।এর আগে বুধবার (৯ জুলাই) কিয়েভে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসময় ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ৭২৮টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ওই হামলায়ও একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এদিকে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রকাশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পুতিন আমাদের অনেক আজেবাজে কথা বলছেন। যদি সত্যি জানতে চান, তিনি সব সময় খুব ভদ্রভাবে কথা বলেন, কিন্তু শেষে দেখা যায় সেসবের কোনো মানে নেই।’তবে ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যকে রাশিয়া হালকাভাবেই নিয়েছে। গতকাল বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘পুতিন সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যে আমরা শান্তভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। ট্রাম্প সাধারণত এমন ভাষা ও ভঙ্গিতেই কথা বলেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চলবে বলে আশাবাদী আমরা।’দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কার্যত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসানে শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে।প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের তথ্য মতে চলতি বছরের জুন মাসে ইউক্রেনে গত তিন বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই মাসে ২৩২ জন নিহত ও ১,৩৪৩ জন আহত হন।সূত্র: বিবিসি আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
