বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করেই প্রশস্ত করা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ—সোনামসজিদ মহাসড়ক। এ সড়কটি ৬ দশমিক ২ মিটার থেকে উন্নীত করা হচ্ছে ১০ দশমিক ৩ মিটারে। কিন্তু সড়কের মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে কাজ।এ অবস্থায় ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণের সুফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, পযার্য়ক্রমে খুঁটিগুলো সরানো হবে। এতে করে সড়কের কাজের মানে কোন প্রভাব পড়বে না।সওজ সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ জিরো পয়েন্ট থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কটি সরু এবং অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যানজট তৈরি হয়। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় বহু লোকের প্রাণহানীও ঘটে। সড়কের ১৪৫০ মিটার অংশ প্রশস্তকরণ ও মজবুত করতে কাজ শুরু করেছে সওজ। এর মধ্যে বারঘরিয়া, ছত্রাজিতপুর ও রানীহাটি এলাকায় কংক্রিটের ঢালাই করা হবে। বাকি অংশ হবে কার্পেটিং বা বিটুমিনের। প্রকল্পের মোট ব্যয় হচ্ছে ৪৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সড়কটি একেকটি অংশে একেক রকম প্রশস্ত হবে। কাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। প্রতি কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে গড়ে খরচ ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রানীহাটি ও ছত্রাজিতপুর এলাকায় সড়কের বর্তমান প্রস্থ ৬ দশমিক ২ মিটার। দুই পাশে প্রশস্ত করে সড়কটি ১০ দশমিক ৩ মিটারে উন্নীত করা হচ্ছে। সড়কের ওই অংশে ৩৪০ মিলি মিটার কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে উঁচু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪ ইঞ্চি ঢালাই হয়ে গেছে। কিন্তু সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই দেয়া হচ্ছে এসব ঢালাই। প্রায় ৪ ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই ভেঙে ভবিষ্যতে এই খুঁটি স্থানান্তর করা কঠিন হবে। অবশ্যই খুঁটির পাশে কিছুটা ফাঁকা রাখা হচ্ছে। তবে সেটা যথেষ্ট নয়। এতে প্রশস্ত করা বাকি অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। আবার যানবাহন চলাচল করলেও দুর্ঘটনার শিকার হবে। সড়কের অন্যান্য অংশেও খুঁটি রেখেই প্রশস্ত করা হচ্ছে। মোট কতটি খুঁটি সরাতে হবে, এমন কোন তথ্য দিতে পারেনি সড়ক বিভাগ।স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন আলী বলেন, খুঁটি না সরিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করেছে। এটা সড়ক বিভাগের চরম গাফিলতি। খুঁটিগুলো আগেই সরিয়ে কাজ করলে সড়কের কাজের মান ভালো হতো। এখন যেহেতু সেগুলো রেখেই কাজ করছে, এতে করে সড়ক বিভাগের কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।রানীহাটি বাজারের মুদি দোকানদার আব্দুল আলিম বলেন, খুঁটি সরিয়ে যেখানে কাজ করা উচিত ছিল, সেটা না করে খুঁটি রেখেই ঢালাই দিচ্ছে। খুঁটির পাশে কিছু জায়গা ফাঁকা রেখে কাজ করলেও পরে খুঁটি তোলার সময় সড়কের ক্ষতি হতে পারে। টিকসই মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।চাঁপাইনবাবগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ্ মো. আসিফ বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্য নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দিয়েছি। তাঁরা ঠিকাদার নিয়োগ করে খুঁটিগুলো সরানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে, কবে নাগাদ খুঁটিগুলো সরানো শেষ হবে, তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকতা।আর খুঁটি রেখে কাজ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, এমন প্রশ্নে সওজ প্রকৌশলী জানান, খুঁটি সরানো না হলেও যে ৪ ইঞ্চি সিসি ঢালাই করা হচ্ছে, সেখানে খুঁটির পাশে কিছু জায়গা ফাঁকা রাখা হচ্ছে। পরে সেই খুঁটিগুলো সরানো হবে। এতে করে সড়কের কোন ক্ষতি হবে না। তাঁদের জন্য—তো সড়ক বিভাগের কাজ থেমে থাকতে পারেনা।আর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ—১, নেসকো লিঃ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বলেন, খুঁটিগুলো স্থাপনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সেটা হলেই কাজ শুরু হবে। তবে সেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। নতুন আর পুরাতন অর্থবছরের মধ্যভাগে কাজটি সম্পন্ন করতে কিছুটা জটিলতাও দেখা দিয়েছে। ওই বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলার ২৫ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সেটা একটি চালু লাইন। তাই একসঙ্গে খুঁটিগুলো সরানো হবে।এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, একাধিক ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের সাথে সমন্বয় রেখে খুঁটিগুলো সরানো হচ্ছে, যাতে করে তাঁদের কাজের সমস্যা যেন না হয়। আমাদের জন্য সড়ক বিভাগের কোন ক্ষতি হবে না।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
