গোপনে রাতের অন্ধকারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে গ্রেপ্তার হয়েছেন পাবনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সোহেল। গত সোমবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে মুর্শিদাবাদ জেলার রানীতলা থানার পুলিশ হরিরামপুর ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বাংলাদেশের পাবনা সদর থানার অন্তর্গত কাছারিপাড়ার বাসিন্দা।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রানীতলা থানার পুলিশ জানতে পারে, সীমান্ত পেরিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে তাদের এলাকায় প্রবেশ করেছেন। এরপরই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজিত ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের পর নজরুলকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি হামলা, নিপীড়ন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, শারীরিক নিগ্রহ ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন বলে জানান।নজরুল পুলিশের কাছে আরও বলেন, ‘আমি যদি এলাকায় থাকতাম, তাহলে মেরে ফেলা হতো। শেখ হাসিনা যেহেতু ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, আমিও প্রাণ রক্ষার জন্য সেই পথ বেছে নিয়েছি। আমি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় গোপনে ভারতে প্রবেশ করেছি।’তবে ভারতীয় পুলিশ নজরুল ইসলামের বক্তব্য আমলে না নিয়ে তার বিরুদ্ধে ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট, পাসপোর্ট আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। পরদিন মঙ্গলবার তাকে মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়।এই ঘটনার পর মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং চেকপোস্ট কার্যক্রমও।সূত্র জানায়, সোহেলকে গ্রেপ্তারের পর সীমান্তজুড়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা হঠাৎ একজন রাজনীতিকের অনুপ্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।জেলা পরিষদ সদস্য সোহেল সর্বশেষ প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। এলাকায় তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিতেন। তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা জানিয়েছেন, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সোহেলের কোনো পদ ছিল না। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
