আষাঢ়ের বৃষ্টিপাতের মধ্যেই বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে ।রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে গরম থেকে স্বস্তি মিললেও বেড়েছে ভোগান্তি  মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে দুপুরের পর থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলো এখন ছাতা আর রেইনকোটের দখলে। টানা বৃষ্টিতে একদিকে যেমন গরমের অবসান হয়েছে। অন্যদিকে পায়ে হাঁটা পথচারীদের দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কেউই থেমে নেই, কর্মময় দিনে বৃষ্টিতে ভিজেই ছুটছেন অনেক শ্রমজীবী আর নিম্ন আয়ের মানুষেরা। যদিও এখনো কোথাও পানি জমেনি তবুও শহরজুড়ে বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরব ভোগান্তি।অন্যদিকে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামীকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চলটানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও কলাগাছে ভেলা, কোথাও আবার কক্সশিটে শিশু ও জিনিসপত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন পানিতে আটকেপড়া লোকজন। এতে সুপেয় পানি, রান্না ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়েছেন হাজারও পরিবার। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টির কারণে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে জানা গেছে, কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের।ফেনীতে ৪০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড, বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানিফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় বিগত কয়েক বছরে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। টানা বর্ষণ ও ভারতীয় উজানের পানিতে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত দশটি স্থান ভেঙে গেছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, বিকেল ৪টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিষয়ে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, জেলায় টানা দুই দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ।বরিশালে অবিরাম বর্ষণে জীবনযাত্রা ব্যাহতচার দিনের অবিরাম বর্ষণে নাকাল হয়ে পড়েছে বরিশালবাসী। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কর্মজীবী, শিক্ষার্থী আর নিম্নআয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বৃষ্টিতে অনেকেই ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছেন। তবে বৃষ্টিতে খুশি হয়েছেন চাষিরা। ক্ষেতে ধানের বীজ বপনে উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টিপাত মাটিকে উর্বর করবে বলে জানান তারা।মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গত শনিবার থেকে মাঝারি পরিমাণে বৃষ্টি হতে শুরু করে। এখনো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে ড্রেন, নালা ও ডোবা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মৃতপ্রায় খালগুলোতে পানি আটকে ময়লা আবর্জনা পথে উঠে এসেছে। অনেক স্থানে জলাবদ্ধতারও তৈরি হয়েছে।টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন বাগেরহাট শহরটানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বাগেরহাট শহরের সড়ক থেকে গলি, বাড়ি থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। হাঁটুপানি জমে শহরের অধিকাংশ এলাকা। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। গত রোববার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বাগেরহাট শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো।মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশের এলাকা, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনসহ অনেক জায়গায় হাঁটুপানি জমে আছে। এ ছাড়া, অনেক দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সড়ক নোয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টার টানা বর্ষণে আবারও পানিতে তলিয়ে গেছে জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কাঁচা ও আধা-পাকা সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমরপানি জমে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ স্থবিরতা। জানা গেছে, নোয়াখালী সদর, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরের বিভিন্ন অঞ্চলের নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহর মাইজদীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মৎস্য অফিস, জেলা খানা সড়ক, পাঁচ রাস্তার মোড়, পৌর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে।জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আরও ভারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টিপাত আগামী কয়েকদিন থাকতে পারে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা করছি।   পটুয়াখালীতে ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবনপটুয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণে পটুয়াখালী পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী আবহাওয়া কার্যালয়ের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুবা সূখী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এজন্য মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৭ প্রস্তাব ড. ইউনূসের
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৭ প্রস্তাব ড. ইউনূসের

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে একটি ‘বাস্তব রূপরেখা’ (প্র্যাকটিক্যাল রোডম্যাপ) তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ Read more

ভালো ঘুম কেন জরুরি?
ভালো ঘুম কেন জরুরি?

Source: রাইজিং বিডি

আকাশসীমা খুলে দিল ইসরাইল
আকাশসীমা খুলে দিল ইসরাইল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর নিজেদের আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইসরায়েল।মঙ্গলবার (২৪ জুন) ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল Read more

‘একজনের নামে সর্বোচ্চ ৭টি সিম নিবন্ধন, ভোটের আগে বাস্তবায়ন’
‘একজনের নামে সর্বোচ্চ ৭টি সিম নিবন্ধন, ভোটের আগে বাস্তবায়ন’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত সিমকার্ড কমিয়ে আনা হবে। Read more

দোকান মালিক গ্রামে নেই, সুযোগে যুবদল নেতার দখলচেষ্টা!
দোকান মালিক গ্রামে নেই, সুযোগে যুবদল নেতার দখলচেষ্টা!

নাটোরের সিংড়ায় জোরপূর্বক এক ব্যবসায়ীর দোকানঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের মুন্সি Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন