মেহেরপুরের গাংনীতে পাট চাষের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না প্রকৃত চাষিরা। যারা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, তাদের অনেকেই কৃষক নয়। অভিযোগ উঠেছে, সাজানো কৃষক দিয়ে পাটচাষ প্রশিক্ষণ দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রকৃত পাট চাষিদের।উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে পাট চাষী প্রশিক্ষণ ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার (৮ই জুলাই) উপজেলা পরিষদের হলরুমে।প্রশিক্ষণ বঞ্চিত পাট চাষিদের অভিযোগ, প্রকৃত চাষিরা প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় পাট চাষ কমে যাচ্ছে। গাংনী উপজেলায় আগে অনেক পাট চাষ হতো। বিভিন্ন কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন চাষিরা। তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে উপজেলা পাট অধিদপ্তর ও কৃষি অফিস প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর ইউনিয়ন পর্যায়ে বাছাই করা পাট চাষিদের উপজেলায় এক দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন না প্রকৃত পাট চাষিরা। যারা অংশ নেন, তাদের অনেকেরই জমি নেই; থাকলেও তাতে পাট চাষ করেন না। আবার কারও নাম থাকলেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অন্য কেউ। যাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ১০০০ টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা, দুপুরের খাবারের একটি প্যাকেট, একটি পাটের ব্যাগ ও এক কেজি করে পাটবীজ হাতিয়ে নেওয়া।উপজেলা পরিষদ হলরুমে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে উপজেলা পাট অধিদপ্তর। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে দেখা গেছে, মঞ্চে অনেকগুলো চেয়ার খালি পড়ে আছে। প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ভাতা ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করছেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.কা.ম হারুন অর রশীদ। তাঁকে সহায়তা করছেন উপজেলা সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এরশাদ আলী। সামনে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যে কয়েকজন আছেন, তাদের সংখ্যা ৭৫ হবে না। বেশভূষায়ও তাদের চাষি বলে মনে হয়নি। আবার অনেককে প্রশিক্ষনার্থী তালিকায় স্বাক্ষর করে আশপাশে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে।জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে প্রশিক্ষণ চলে মাত্র দেড় ঘণ্টা। এত অল্প সময়ের প্রশিক্ষণে কী শিখিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবেন।বামন্দী গ্রামের পাটচাষি সাজেদুর রহমান জানান, তিনি প্রতি বছর কয়েক বিঘা জমিতে পাটচাষ করেন। কিন্তু কখনও প্রশিক্ষণ পাননি। অভিযোগ করে তিনি বলেন, যে ৭৫ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে একজনও প্রকৃত কৃষক নেই।কাজিপুর গ্রামের পাটচাষি মিকাইল হোসেন জানান, প্রকৃত কৃষক প্রশিক্ষণ না পেলে পাটের চাষ কমতেই থাকবে।মহাম্মদপুর গ্রামের পাটচাষি সোহেল রানা বলেন, পাট চাষে প্রশিক্ষণ যে হয়, আমরা জানি না। তবু আমরা বছরের পর বছর বিঘা বিঘা পাট চাষ করে আসছি। কোন পরামর্শ ও সহযোগিতা কোনদিন পায়নি। কোন প্রকৃত পাট চাষি এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারে না।হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পাট চাষি জিল্লুর রহমান বলেন, আমিতো প্রায় দুই বিঘার উপরে পাট চাষ করেছি। পাট চাষের কোন ট্রেনিং আজ পর্যন্ত পাইনি। উপজেলায় যাদেরকে পাট চাষের ট্রেনিং দেওয়া হয়, তারা কেউই চাষি নয়।প্রকৃত পাট চাষিরা কেন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না, সে বিষয়ে কথা হয় জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.কা.ম হারুন অর রশীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশিক্ষণার্থীদের নামের তালিকা দেন। এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না।’গাংনী উপজেলা সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এরশাদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, আপনি আমার সাথে একটু দেখা করেন।’গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ‘এমন তো হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো। ভবিষ্যতে প্রকৃত কৃষক যাতে প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত না হন, সে দিকেও লক্ষ্য রাখবো।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
