যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে তার এই পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত।সম্প্রতি ট্রাম্প সদ্য কংগ্রেসে একটি বিল পাস করিয়েছেন, যা নিয়ে মাস্কের কড়া আপত্তি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই বিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি আরও বাড়াবে। এর পরেই মাস্ক এ নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন। মাস্কের নতুন দলটির নাম ‘আমেরিকা পার্টি’।দল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি মাস্ক জানিয়েছেন, তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দলের প্রার্থীদের দাঁড় করাতে চান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আসন এমন রিপাবলিকানদের, যারা বাজেট সুশাসনের কথা বলেও ট্রাম্পের বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত তৃতীয় দলের মতো নয় মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’। কারণ, মাস্কের বিপুল সম্পদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিপুল জনপ্রিয়তা তাঁকে আলাদা করেছে।সাবেক রিপাবলিকান প্রার্থী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাট শুমেকার এএফপিকে বলেন, ‘ইলন মাস্কের নতুন দলটি রিপাবলিকানদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেসে তাদের খুব সীমিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। মাস্ক ভোট কেটে নিতে পারলে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাও হারাতে পারে তারা।’এদিকে গত জুনে মাস্কের করা এক অনলাইন জরিপে ৫৬ লাখের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৮০ শতাংশ তার নতুন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন জানিয়েছেন।বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদ প্রায় ৪০৫ বিলিয়ন ডলার। রাজনীতিতে অর্থ ব্যয় করতেও তিনি আগ্রহী। এর আগে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি ২৭৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। তবে উইসকনসিনের এক স্থানীয় নির্বাচনে ২০ মিলিয়ন খরচ করেও তাঁর সমর্থিত প্রার্থী হেরে গেছেন, যা অর্থ খরচ করেও রাজনৈতিক সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই, তা দেখিয়ে দেয়।তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকানদের বাইরে তৃতীয় দলের সাফল্যের উদহারণ বিরল। গত শতকে কেবল নিউইয়র্কের কনজারভেটিভ পার্টি ও ফার্মার-লেবার পার্টিই সিনেট আসন জিততে পেরেছে।তবে রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্ক যদি নিজে জিততে নাও পারেন, তাঁর দল কৌশলগতভাবে রিপাবলিকানদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।গ্লোবাল ক্রাইসিস পিআর ফার্ম রেড বানিয়ানের প্রধান ইভান নায়ারম্যান বলেন, ‘একটি আসনে মাস্কের প্রার্থী খুব বেশি ভোট নাও পেতে পারে, কিন্তু যদি রিপাবলিকানদের ভোট কেটে নেয়, তাহলে কঠিন কিছু আসনে তারা পরাজিতও হতে পারে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
