খাগড়াছড়ির রামগড় মুহামনিতে অবস্থিত দেশের প্রথম মৈত্রী সেতু-১, যা একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে রূপান্তর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এই স্থলবন্দর ঘিরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি চালু নিয়ে বর্তমানে তৈরি হয়েছে একপ্রকার ধোঁয়াশা।দেশের বড় আর্থিক ব্যয় ও বিশাল পরিসরে দীর্ঘ ১৫ বছরের এক কর্মযজ্ঞ কবে নাগাদ শেষ হবে! আদৌ এই স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হবে কিনা তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।তবে দু-দেশের মানুষের মাঝে বহুল প্রত্যাশার রামগড় স্থলবন্দর নিয়ে এক প্রকার ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই স্থলবন্দর নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা রামগড়ের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কারণ, রামগড় থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। এই অঞ্চলকে ‘নিরাপত্তার দিক থেকে স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, ‘রামগড় দেশের একমাত্র ট্রানজিট বন্দর, যার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ভারত এই বন্দরকে ব্যবহার করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আরও বাড়াতে চায়।’ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম রামগড় বন্দর চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই বন্দর চালু হলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকার রাজস্ব পেতে পারে, তৈরি হতে পারে অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। অথচ বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।ভারত ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেও উদ্বিগ্ন, সেখানে বাংলাদেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, শুধু একটি ইমিগ্রেশন ভবনে ১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।এদিকে রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্পের আওতায় প্রশাসনিক ভবন, পোর্ট ভবন, ট্রাক টার্মিনাল, যাত্রী টার্মিনালসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান। প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, ‘৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে আংশিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে।’রামগড় থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ১১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ৩৮ কিলোমিটার সড়ক, ৯টি সেতু ও ২৩টি কালভার্ট। প্রকৌশলী জাহেদ হোসাইন জানান, ‘৬০ শতাংশ কাজ শেষ। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কেটে গেছে। এখন দ্রুত কাজ চলছে।’প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রামগড় পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনাও হয়েছে। তবে ভারত আগের সরকারের সময়ে গত ১৪ আগস্ট ইমিগ্রেশন চালুর প্রস্তুতি নিলেও, সরকার পরিবর্তনের পর তা থমকে গেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের লাভ যেখানে বহু, বাংলাদেশের জন্য সেই সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এত বড় বিনিয়োগের পর স্থলবন্দর চালু না করলে সেটি হবে জাতীয় ক্ষতির শামিল।স্থানীয়দের মতে, কূটনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হিসাব মিলিয়ে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত রামগড় স্থলবন্দর চালু করাই হবে ভবিষ্যৎমুখী পদক্ষেপ।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
