কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় চালকসহ পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।শুক্রবার (৪ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব খরুলিয়া টেক এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন, রামুর চাকমারকুল এলাকার সাইফুল ইসলাম (২৪), একই ইউনিয়নের শ্রীমুরা এলাকার আরাফাত (২২), জামালপুর সদরের রমজান (৪৫), কক্সবাজার সদরের হাসিনা বেগম (৩৪) এবং রামুর মিছবাহ উদ্দীন (২৫)।তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত রমজান ও মিছবাহর অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিটি কক্সবাজার শহর থেকে রামুর দিকে যাচ্ছিল। পথে খরুলিয়ার টেক এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটি সড়কের পাশের ডোবায় উল্টে পড়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি ভয়াবহভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যায়।দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পানিতে নেমে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।সমাজকর্মী হাকিম বলেন, ‘ট্রাকটি পেছন থেকে এসে হঠাৎ সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই সিএনজিটি ছিটকে গিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। আমরা দৌঁড়ে গিয়ে উদ্ধার করি। তখন অনেকে পানির নিচে আটকে ছিলেন।’রিকশাচালক বাবুল জানান, ‘চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেছি। মানুষগুলোকে পানি থেকে টেনে তোলা হচ্ছিল। কেউ কেউ তখনও ডুবে ছিল। অনেকে কাঁদছিল। একজনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।’ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমত আরা। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।’এই দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খরুলিয়ার ওই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
