চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুটি ড্রেজার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ডের টহল দল। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে কুতুবদিয়া চ্যানেলের মনুমিয়াজী ঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পরে ড্রেজার দুটিসহ ৭-৯ জন শ্রমিককে কোস্ট গার্ডের টহল দল গণ্ডামারা খাটখালী ঘাটে নিয়ে যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা ড্রেজার দুটি ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরী ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে তদবির করেন। সারাদিনের নাটকীয়তা শেষে রাতে উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের খাটখালী জোনের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বৈধ অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ড্রেজার দুটি খাটখালী ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।রাত ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার দুটি জব্দ করা হয়। এ সময় একটি ড্রেজারকে দুই লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একটি ড্রেজারের জরিমানা নগদে পরিশোধ করায় সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়, অপরটি জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জব্দ করা হয় এবং মাঝিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।দণ্ডিত মাঝি মো. ইউসুফ (৪৫), ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ মঙ্গলচরের মোহাম্মদ মোস্তফার পুত্র।কোস্ট গার্ডের খাটখালী জোনের কোম্পানি কমান্ডার (সিসি) বলেন, ‘এসিল্যান্ড স্যার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। একটি ড্রেজারের মালিকপক্ষ জরিমানা দিয়ে নিয়ে গেছে। অন্যটি জব্দ করা হয়েছে এবং মাঝিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘মনুমিয়াজী ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করি। দুটি বল্কহেড ড্রেজার আটক করে ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।’স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সাগরে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছিল। বেড়িবাঁধের নামে শুরু করা হলেও পরে তা রূপ নেয় বালির রমরমা বাণিজ্যে। এ কাজে দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মনুমিয়াজী ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট কুতুবদিয়াসহ আশপাশের এলাকায় বালি বিক্রি করে আসছে।অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ছনুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
