প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও ধামইরহাট পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন তৈরি করা সম্ভব হয়নি। উপজেলার সদর এলাকার একটি ভাড়া ভবনের তৃতীয় তলায় অস্থায়ী কার্যালয় থেকে চলছে পৌরসভার সকল কার্যক্রম। নিজস্ব ভবন ও নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে আঞ্চলিক সড়কের পাশে। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও দুর্গন্ধে ভোগান্তি বেড়েছে উপজেলার মানুষদের। এছাড়াও একটি ভবনের অভাবে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রাখতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। এতে করে সরকারি সম্পদ অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ জুলাই ১১.১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে ধামইরহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। মোট ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। দীর্ঘ বছর ধরে উপজেলার আমাইতাড়া বাজারের পাশে অবস্থিত উমার ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে চলে পৌরসভার সকল কার্যক্রম। বর্তমানে উপজেলার টিএন্ডটি এলাকায় একটি ভাড়া বিল্ডিং থেকে পৌরসভার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নওগাঁ জেলায় মোট ৩টি পৌরসভা রয়েছে। তার মধ্যে নওগাঁ সদর পৌরসভা, নজিপুর পৌরসভা এবং ধামইরহাট পৌরসভা। জেলার অন্যতম একটি পৌরসভা হওয়ার পরেও প্রতিষ্ঠার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব ভবনে মাথা গোঁজাতে পারেনি ধামইরহাট পৌরসভা। এ পৌরসভার অধীনে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার প্রথমে পৌর প্রশাসক হিসেবে প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালন করেন ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপল। ২০০৬ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আমিনুর রহমান পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। মামলা জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পরে ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন মো. আমিনুর রহমান। ২০০৬ সাল থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাবার পরে তাকে আর পৌরসভায় কখনো দেখা যায়নি। তবে বর্তমানে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা প্রদানে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিজস্ব ভবন তৈরি হলে আরও সেবার মান বাড়বে, এমনটা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. জেসমিন আক্তার জানান, আপাতত পৌরসভার ভবন নির্মাণে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে পৌর ভবন একটি পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অন্যতম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজস্ব ভবন থাকলে নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনেকটা সহজ হবে, বলে তিনি জানিয়েছেন।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
