টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ টি মামলার কুখ্যাত আসামী জাহাঙ্গীর মন্ডল ( চাকমা জাহাঙ্গীর) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। ঐ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।নিহত জাহাঙ্গীর মন্ডল (৪৫) উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের মৃত নাজিম মন্ডলের ছেলে। এলাকায় তিনি চাকমা জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত।মঙ্গলবার (১জুলাই) আনুমানিক রাত ৯ টায় উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইসগেট এলাকায় তিনি সন্তাসী হামলার শিকার হন পরে তাঁকে টাঙ্গাইল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন। বুধবার ( ২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম সিএনজি যোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পরে নলিন বাজার পার হবার পর শাখারিয়া স্লুইসগেট এলাকায় পৌছালে একদল সন্ত্রাসী হাতুড়ি এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরের উপর হামলা করে। এ সময় জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বাঁধা দিলে হামলাকারীরা তাঁর উপরেও হামলা করে। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা জাহাঙ্গীরকে হামলাকারীরা রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগীতায় প্রথমে তাঁকে ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার্ডকরে। টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পৌছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষনা করে।হেমনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উমর আলীর মাধ্যমে জানা যায়, ঐ এলাকায় জাহাঙ্গীরের প্রভাব রয়েছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৮ টি মামলা রয়েছে। এছাড়া যমুনার ঘাটে অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, সড়ক পথে ডাকাতি, নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির সংঘবদ্ধ একটি গ্যাং চালাতো চাকমা জাহাঙ্গীর। এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য টাঙ্গাইল ও জামালপুরের যমুনা তীরের জনপদ অশান্ত হয়ে উঠেছিল। নিহতের পরিবারের দাবী, স্থানীয় মাদক কারবারিরা পরিকল্পিত ভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে। এর আগে একাধিকবার ঐ এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। সে সময় স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তিদের মাদকসহ আটক করে পুলিশ। তখন থেকেই ঐ মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত জাহাঙ্গীরকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাদের দাবী জাহাঙ্গীরের সহায়তায় পুলিশ বার বার তাদের আটক করে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রভাবে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।এদিকে নিহতের বড় ভাই শাহালম একাধিক ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে মাদক ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। তারা মনে করত, জাহাঙ্গীর বার বার পুলিশ পাঠায়। এই হত্যাকান্ডের সাথে জরিতদের ফাঁসি চাই। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক নিহতের ভাতিজি জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ চাচাত ভাইদের সাথে জাহাঙ্গীরের বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জাহাঙ্গীরের বিরোধ ছিল।আমার চাচা জাহাঙ্গীরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও অভ্যন্তরিন কোন্দলে একাধিক বার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকান্ডে জরিতদের ফাঁসি চাই। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তাদির আশরাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগীর পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করব।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
