নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ট্রেড লাইসেন্স আনতে গিয়ে খুন হলেন এক ব্যবসায়ী। বুধবার (২ জুলাই) বিকেল ৩ ঘটিকার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষকের রুমে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।নিহতের নাম শাহিন মিয়া (৩০)। তিনি উপজেলার উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি হাসনাবাদ রেলওয়েস্টেশন এলাকার একজন পরিচিত সেনেটারী ও পাইপ ব্যবসায়ী ছিলেন। অভিযুক্ত হামলাকারী শামীম (৪০) একই উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের জালু মিয়ার ছেলে। শামীম একজন মাদকাসক্ত ও বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় অবস্থান করে আসছেন। এর আগেও তিনি একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহিন তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে ৩ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে যান। গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে হঠাৎ হিসাবরক্ষকের রুমে অবস্থানরত অবস্থায় শামীম নামের এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতক।ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব রক্ষক কামাল হোসেন জানান, হঠাৎ করে মাদকসেবি শামিম ইউনিয়ন পরিষদে এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পাগলামি করতে থাকে। এসময় আমি ভয়ে রুমের দরজা লাগিয়ে ফেলি। কিছুক্ষন পর অবস্থা একটু স্বাভাবিক হলে দড়জা খুলে দেয়। কিন্ত আচমকা শামীম কক্ষে প্রবেশ করে সেবা নিতে আসা হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী শাহিনকে কুপাতে শুরু করে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শাহিনকে কুপিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতক শামীম। তাকে স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে ও আটক করতে গেলে তাদের দিকেও অস্ত্র নিয়ে আসে হামলা করতে। পরে শাহীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত শাহিনের সহকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিচার এবং ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল মাহমুদ জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
