মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও, জনবল সংকট ও ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। ফলে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে উচ্চমূল্যের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাধ্য হচ্ছেন।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রপাতি থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে এক্স-রে অপারেটর পদ শূন্য থাকায় এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া ও সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো অপারেশনও হচ্ছে না। তবে এক্স-রে ও অপারেশন থিয়েটার ছাড়া বাকি বিভাগগুলো সচল রয়েছে।রোগীরা অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে সরকারের বিনিয়োগের অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের প্রায় ৯৮ ভাগ পরীক্ষাই এখানে না করে চিকিৎসকের পছন্দের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। এসব কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পান বলে অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. ফারুক হোসেনসহ কয়েকজন চিকিৎসক নিয়মিত রোগীদের নিজেদের পছন্দের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান। এমনকি একজন চিকিৎসকের দাবি, কিছু চিকিৎসক এমন সব পরীক্ষা লিখে দেন যেগুলোর প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র কমিশনের জন্য।সরেজমিনে দেখা গেছে, ডা. ফারুক হোসেন নিয়মিত রোগীদের ‘মোল্লা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ পাঠাচ্ছেন। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরা হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে রোগীদের সেখানে নেওয়ার কাজ করছেন। জানা যায়, ডা. ফারুক হোসেন অবসরে গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চেম্বার করেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফারুক হোসেন বলেন, ‘গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা হয় না। আমি মোল্লা ডায়াগনস্টিকে দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার করছি; এখানকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুলো শতভাগ নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে আমি কোন রোগীকে নির্দিষ্ট করে কোন ক্লিনিকে যেতে বলি না।দুর্নাম করা লোকের অভাব হয় না কিন্তু দায়িত্ব পালন ও সেবা দেওয়ার লোক পাওয়া খুব কঠিন।’আরএমও ডা. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. আবু সাইদ বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
