৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিন ঘন ঘন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি হাসপাতালও। বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ হয়ে অসহ্য গরমে কষ্ট পাচ্ছেন মানুষ।গত শুক্রবার থেকেই সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও তার পরের এক-দুই ঘণ্টাই থাকে লোডশেডিং। এই দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে শিশু-বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীরা। বিপাকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও; ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে তাদের লেখাপড়া।সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো রকম হালনাগাদ তথ্য বা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তারা জানতে পারছেন না—এই দুর্ভোগ কখন শেষ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বিকল ট্রান্সফরমার ঠিক করতে যদি চার-পাঁচ দিন লেগে যায়, তাহলে জনগণের করের টাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের বেতন হয় কেন?’রানা ধর নামের একজন লিখেছেন, ‘সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ কি আর ঠিক হবেনা? নাকি বিদ্যুতের জন্য আন্দোলনে নামতে হবে?’সাতকানিয়া পৌরসভার এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন ৬/৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফ্রিজে খাবার পচে যাচ্ছে। গরমে ঘুমাতে পারছি না। ছোট বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে।’এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাদানে ব্যাঘাত ঘটছে। রোগীদের অভিযোগ, ইনজেকশন বা জরুরি সেবার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে নার্সদের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে কাজ চালাতে হচ্ছে। প্রাইভেট হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তেলের খরচ বহন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।এছাড়া, আইসক্রিম, দই, কোমল পানীয়সহ ঠান্ডা পণ্যের দোকানগুলোর মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজার ব্যবহার করতে না পারায় গরুর মাংস বা মুরগির দোকানিরাও পড়েছেন বিপাকে।কেরানীহাটের দোকানি এহসান বলেন, ‘ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফ্রিজে জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিক্রি অর্ধেকে নেমে গেছে।’এইচএসসি পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গরমে বই পড়তে পারি না। বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল চার্জ নেই। ইউটিউবে অনলাইন লেকচার দেখাও বন্ধ। এভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে।’সাতকানিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের একটি ৩৩/১১ কেভি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। এটি মেরামতের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এখন শুধু ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে কাজটি সম্পন্ন করলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘ওই টিম যদি আগামীকাল (বুধবার) সকালে আসে, তাহলে বিকালের মধ্যেই আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব বলে আশা করছি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
