বরগুনার আমতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের লেকের জলাবদ্ধতা দূর করতে পানি নিস্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনে বাধা দিয়েছে স্থানীয় এক ভূমিদস্যু ও তার পরিবার। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার লোকজন পাইপ বসাতে গেলে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবুল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২২ জুন) দুপুরে। এ সময় পৌরসভার লোকজন লেকের জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ শুরু করলে বাধা দেন বাবুল মিয়া, তার দুই ছেলে হাসিব মিয়া ও সোয়েব মিয়া, স্ত্রী রিনা বেগম এবং শ্বাশুড়ি আলেয়া বেগমসহ অন্তত ১০-১২ জন। অভিযোগ রয়েছে, তারা কলেজের শিক্ষক ও পৌরসভার লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে আলহাজ্ব মকবুল আহম্মেদ মৃধা আমতলী পৌরসভার কালীবাড়ী এলাকায় এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এতে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কলেজের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে একটি লেক খনন করা হয়। সম্প্রতি লেকে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে।কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বসির উদ্দিন, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, কবির হোসেন, উত্তম কুমার কর্মকার ও মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে কলেজের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষে থাকা দায় হয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলে ভূমিদস্যু বাবুল মিয়া এবং তার লোকজন হামলা করে শিক্ষকদের ওপর।’একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মার্জিয়া, ঝুমুর ও মারিয়া জানান, লেকের পচা পানির দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত পানি নিস্কাশনের দাবি জানান।অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘ভূমিদস্যু বাবুল মিয়া কলেজের জমি দখল করে পানি নিষ্কাশনের পথ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে দিয়েছেন। আবার এখন পাইপ বসাতেও বাধা দিচ্ছেন। আমাদের শিক্ষক ও পৌরসভার কর্মীদের গালাগাল করেছেন এবং অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’তিনি আরও জানান, আগামী ২৬ জুন এই কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাত শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেবে। পরীক্ষার সময় যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য আগে থেকেই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অথচ এ সময়ই সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনে আমরা পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাবুল মিয়া ও তার লোকজন বাধা দেয় এবং ধারালো অস্ত্র হাতে শিক্ষক ও আমাদের কর্মীদের ধাওয়া করে। এ অবস্থায় আমরা কাজ বন্ধ করে ফিরে আসতে বাধ্য হই।’অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, ‘ওই কলেজের লেকের পানি আমার জমির ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এতে আমার ক্ষতি হচ্ছে। তাই আমি পানি নিস্কাশনের পথ আটকে দিয়েছি। আমার জমির ওপর দিয়ে পাইপ বসাতে দেব না।’এ বিষয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ রোকনুজ্জামান খান বলেন, ‘কলেজের লেকের পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন করা হবে।’এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
