চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ফাতেমা আক্তার (২৬) নামের গৃহবধূকে নৃশংসভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে পাষণ্ড স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে পাষণ্ড স্বামী ও এই হত্যাকান্ডার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দেন। শনিবার (২১ জুন) সীতাকুণ্ড মডেল থানার সামনে মানববন্ধন শেষে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এই দাবি তুলে ধরা হয়।সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার দক্ষিণ সোনা পাহাড় এলাকার নুরুল আবছারের মেয়ে ফাতেমা আক্তারের ২৬) সঙ্গে ১০ বছর পূর্বে বিয়ে হয় সীতাকুণ্ড উত্তর বগাচতর এলাকার নুরুল মোস্তফার ছেলে মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে।বিয়ের পর থেকে তার স্বামী ও শাশুড়ি দ্বারা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল ফাতেমা। অবশেষে সেই নির্যাতনের বলী হয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়ার পাঁচদিন পর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, মাদক বিক্রেতা স্বামী ও শাশুড়ি কর্তৃক শারীরিক- মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন ফাতেমা। গত ১৪জুন পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে স্বামী আবারও তাকে মারধর করে। প্রতিবেশীরা দেখেছে মারধরের এক পর্যায়ে ফাতেমাকে গৃহবন্দী করে আগুন লাগিয়ে দেয় স্বামী মুসলিম।ঘটনার পর এলাকার কয়েকজন যুবক মুসলিমের বাড়িতে যায়। তারা সেখানে গিয়ে টেনে তোলা মুষ্টিবদ্ধ চুল দেখতে পায়। সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগার কোনো রকম চিহ্ন খুঁজে পাননি তারা। নিহত ফাতেমার ছেলে তার ঘটনার দিন মাকে (ফাতেমা) তার বাবা বেধম মেরে গলা টিপে ধরছিল বলে জানিয়েছেন।এলাকাবাসীর ধারণা, সম্প্রতি মুসলিম গোপনে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে।যার কারনে আগের স্ত্রী ফাতেমাকে দুনিয়া থেকে না সরালে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে আনতে পারছেনা। সে জন্য তাকে আগুন লাগিয়ে মেরেছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।নিহত ফাতেমার বাবা নুরুল আবছার ও ভাই নুরুন নবী বলেন, গায়ে কেরোসীন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়েছে ফাতেমাকে। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে মারা যাওয়ার পর থেকে স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে গেছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সীতাকুণ্ড বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, উত্তর বগাচতর একালার বাসিন্দা মহিবুর রহমার শওকত, খাইরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, জাকরীয়া, নেছার উদ্দিন মেজবাসহ নিহত ফাতেমার পরিবারের সদস্য ও ছেলে।সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মজিবুর রহমান বলেন, গৃহবধূকে আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগে শনিবার দুপুরে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
