বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুর ২ টা ১০ মিনিট । যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের ভেতর থেকে হাতুড়ি পেটানোর শব্দ কানে ভেসে আসছে। মর্গের দরজার সামনে গেলে শব্দ আরো জোর হতে থাকে। জানা যায়, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে লাশের মাথা ভাঙ্গা হচ্ছে। এছাড়া মাঝে মাঝে মরিচা ধরা ছেনি দিয়েও মাথার খুলি খোলা হয়। এছাড়া ময়নাতদন্ত কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি ছুরিতেও ধার নেই। দেখলে মনে হবে তাতে দীর্ঘদিন ধার দেয়া হয়নি। বর্তমান সময়েও হাসপাতাল মর্গে আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি না থাকায় এই ভাবে চালানো হচ্ছে লাশের ময়নাতদন্ত কার্যক্রম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র একাধিকবার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখানো বরাদ্দ মেলেনি। জানা গেছে, দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়াক। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে মান্ধাতার আমলের সকল যন্ত্রপাতি। বর্তমানে চলছে ডিজিটাল মেশিনে কার্যক্রম। কিন্তু হাসপাতাল মর্গের দিকে নজর নেই কারো। দীর্ঘ বছরেও এখানে সরবরাহ করা হয়নি ময়নাতদন্তের কাজে ব্যবহৃত আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি। অথচ যশোর জেলার সকল উপজেলা যে কেউ হত্যা বা রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হলেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় এই মর্গে। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মাস ২০ দিনে এই মর্গে মোট ৮৯ লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ময়নাতদন্তকারী একজন চিকিৎসক জানান, নামেই এখানে হাসপাতাল মর্গ। কোন ধরণের আধুনিক সুযোগ সুবিধা এখানে নেই। অনেক পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রতিনিয়ত এখানে লাশের ময়নাতদন্তের কাজ করা হচ্ছে। অথচ হাসপাতাল মর্গের দিকে কর্তৃপক্ষের খেয়াল নেই। দায়িত্ব এড়াতে তারা বাঁধ্য হয়ে ময়নাতদন্তের কাজ করছেন। মর্গে যন্ত্রপাতির বেহাল অবস্থার কারণে গায়ের জোর প্রয়োগ করে লাশ কাটতে হচ্ছে। এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। এই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতাল মর্গের সার্বিক উন্নয়ন প্রয়োজন। ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
