গাজীপুরের শ্রীপুরে এটিএম বুথে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলা দায়ের করার পর দিনভর চেষ্টা চালিয়ে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৬ জুন) রাতে লিটনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক।তিনি আরো জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই শ্রীপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম লিটনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। লিটন ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। পরে সবশেষ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লিটনকে শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।তিনি আরো বলেন, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে মেয়েটিকে বেশি বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার পিতার কাছ থেকে ফোনে ডেকে নেয় একটি এটিএম বুথের গার্ড। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটি একটু প্রতিবন্ধী ধরণের। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। তারপর থেকে আসামি পলাতক। আমরা ঘটনাটি জানার সাথে মামলা রুজু করেছি।অভিযুক্ত মো. লিটন ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার ডুবাইল গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে। লিটন মুলাইদ গ্রামের আতাব উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে ফাস্ট সলিউশন লিমিটেড নামের একটি নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্বরত ছিল।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মামলাটি করেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানা এলাকায়।মামলায় মেয়েটির পিতা অভিযোগ করেছেন, আসামি মো. লিটন মিয়া (৪০) গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকার জনৈক আতাবুদ্দিন মুছার বাড়ীর ভাড়াটিয়া। উক্ত আসামি একজন দুশ্চরিত্রবান ও লম্পট প্রকৃতির লোক। উক্ত বিবাদী তালহা স্পিনিং মিলস্ লিঃ এর এটিএম বুথে চাকুরি করে। আমার ঔরষজাত মেয়ে (১৪), সে ইতোপূর্বে একতা ফ্যাক্টরীতে ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি করিতো এবং আমার মেয়ে উক্ত বিবাদীর কর্মরত এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করতো। সেই সুবাদে আসামি আমার মেয়েকে দেখে এবং কথাবার্তা বলে। এক পর্যায়ে জানায় যে, আমার মেয়ের বেতন কম এবং তাকে আরো বেশি টাকা বেতনে তালহা স্পিনিং মিলস্ এ চাকুরি নিয়া দিতে পারবে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার তারিখ অর্থাৎ ১৫ জুন/২৫ সকাল অনুমান ৬টার সময় উক্ত আসামি আমার মোবাইলে ফোন করে বলে যে, আপনার মেয়েকে পাঠিয়ে দিলে তাকে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি নিয়া দিতে পারবে। তার কথায় আমার মেয়েকে সরল বিশ্বাসে আসামির কর্মরত তালহা ফ্যাক্টরীর এটিএম বুথের ভিতরে পাঠাই। পরে আমি পরপর দুইবার গিয়া আমার মেয়ের চাকুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আসামি আমাকে মেয়ের চাকুরির কথা চিন্তা না করতে বলে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে অদ্য ১৫ জুন/২৫ সকাল অনুমান ১০টার সময় উক্ত বিবাদী আমার মেয়েকে তালহা ফ্যাক্টরীর এটিএম বুথের ভিতরে একা পেয়ে বুথের পূর্ব পার্শ্বের ফ্লোরে আমার মেয়েকে খুন জখমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও মুখ চাপা দিয়ে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিবাদী আমার মেয়েকে পাঠিয়ে দিলে, আমার মেয়ে আমাকে রাস্তায় পাইলে ঘটনার বিষয়ে জানায়। পরে আমি ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য লোকজনকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় এসে অত্র অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হলো।এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা বলেন, তিনি দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে চাকরি করেন। তার মেয়েটি একটু প্রতিবন্ধী ধরণের। বেশি বেতনের চাকরি দিবে বলে আসামি আমার মেয়েকে ফোন করে ডেকে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করেছে। আমি এর বিচার চাই।শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল বারেক আরো বলেন, ভিক্টিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য গাজীপুরে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল আসামিকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
