চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটোর বিরুদ্ধে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছে একাধিক ঠিকাদার। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত এ অভিযোগ দায়ের করেন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ফেরদাউস মোর্শেদ জুয়েল।অভিযোগে ফেরদাউস মোর্শেদ জুয়েল উল্লেখ করেন, চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো একজন ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, জঘন্য অফিসার। তিনি যোগদানের কিছু দিনের মধ্যে জুন মাস আসে। শুরু হয় তার ৫% হারে ঘুষ বাণিজ্য। হিসাব সহকারী আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫% হারে ঘুষের টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি নির্ধারণ করে দেন। হিসাব সহকারী টাকা পেয়ে সবুজ সংকেত দিলেই তিনি বিলে সাইন করেন। এভাবে তিনি জিম্মি করে আমাদের কাছ থেকে ৫% হারে টাকা আদায় করেন।এছাড়াও গত জুনে তিনি ২০ লাখ টাকার অধিক কোটেশন করেছেন এবং কাজ ছাড়াই উক্ত কোটেশনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রোপাইটার আতাউল হক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে যুক্ত। চাঁদপুর সার্কিট হাউজে ২৫ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন। বাস্তবে কাজ হয়েছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার। সদর হাসপাতালেও তার ২২ লাখ টাকার কাজ চলমান।ঠিক একই ধরনের অভিযোগ করেন হাবিব নামে আরেক ঠিকাদার। তিনি ভিডিও বক্তব্যে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো চাঁদপুরে আসার পর থেকেই বেপরোয়া কার্যক্রম চালাচ্ছে। উনি প্রতি বিলে আমাদের জিম্মি করে ৫% হারে টাকা আদায় করে নেন। অনেক কাজে দেখা যায় আমরাও ৫% লাভ করতে পারিনি। কিন্তু তাকে ঠিকই টাকা দিতে হয়। এক প্রকার জিম্মি করে হাতিয়ে নেন এসব টাকা। আগে হিসাব সরকারি আনোয়ার হোসেনের কাছে টাকা জমা দিলে তারপর তিনি বিলে সাইন করেন। তিনি নিজেও বর্তমানে ঠিকাদারি কাজের সাথে যুক্ত।এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো একাধিক ঠিকাদার ঠিক একই অভিযোগ করেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রকৌশলী গত ৫ আগস্টের বেশ কিছু সময় আগে গণপূর্ত বিভাগের নিচ তালায় বঙ্গবন্ধু কর্নার করেন এবং তিনি নিজে ওই কর্নারের উদ্বোধন করেন। যা চাঁদপুরের বিভিন্ন পত্রিকায় পরের দিন প্রকাশিত হয়। এখন আবার ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন।এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটোর কাছে গেলে তিনি প্রায় ৩ ঘণ্টা সাংবাদিকদের বসিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য না দিয়েই তড়িঘড়ি করে দৌড়ে নিচে নেমে গাড়িতে উঠে দ্রুত চলে যান। পরে সরকারি নাম্বারের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
