আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড় গরু, যার নাম ‘মন্টি’। উপজেলার ধলা গাছ সরদারপাড়া এলাকার আক্কাস আলী স্বপন তার পরম যত্নে লালনপালন করেছেন এই ষাঁড়টিকে। প্রায় ২২ মণ ওজনের এই গরুটি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৮ লক্ষ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।জানা যায়, ২০২২ সালে আক্কাস আলী স্বপন একটি বাছুরসহ গাভী ক্রয় করেন। বাছুরটির সুন্দর গঠন দেখে তিনি সেটিকে বিশেষভাবে লালনপালন করার স্বপ্ন দেখেন। সেই থেকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে তিনি মন্টি নামটির ষাঁড়টিকে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই গণ্য হয় মন্টি। আক্কাস আলী স্বপনের নিবিড় পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ধীরে ধীরে মন্টি প্রায় ২২ মণ ওজনের এক বিশাল পশুতে পরিণত হয়েছে, যার উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৮ ফুট। সকালে ময়দার রুটি দিয়ে নাস্তা করে গরুটি।কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, মন্টি ততই আলোচনায় আসছে এলাকায়। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক জনতা। এলাকাবাসীর একজন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এত বড় গরু আগে দেখিনি। মন্টি আমাদের গর্ব। ঈদের আগে এটিকে দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসছে।’মালিক আক্কাস আলী স্বপন তার প্রিয় মন্টিটির দাম নির্ধারণ করেছেন ৮ লক্ষ টাকা। উপযুক্ত দাম পেলে এবারের ঈদেই মন্টি কোরবানি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই বিশাল ষাঁড়টি একদিকে যেমন মালিকের তিন বছরের পরিশ্রম ও ভালোবাসার ফসল, তেমনই এটি এখন এলাকার মানুষের কাছে ঈদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।গরুটির দেখভাল প্রসঙ্গে স্থানীয় এক পশু চিকিৎসক জানান, ‘মন্টির মতো এত বড় আকারের একটি ষাঁড়কে সুস্থ ও সবল রাখতে হলে নিয়মিত সঠিক পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক খাবারের দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। আক্কাস সাহেব যেভাবে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে মন্টিকে লালন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গত তিন বছরে গরুটির বড় ধরনের কোনো অসুখ হয়নি। কোরবানির পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে আমরা খামারিদের সবসময় পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাবার দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
