‘এতদিন শুধু দুর্দশা কাঁদিয়েছে, আজ চোখে জল এসেছে আশার আলো দেখে’—এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চরনিকলা গ্রামের অভিরাম দাস, যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আবদুল্লাহ খান (ইউএনও) নিজে এসে দাঁড়ালেন তাঁর জরাজীর্ণ ঘরের পাশে।গত ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ইং সময়ের কণ্ঠস্বরে প্রকাশিত একটি মানবিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কীভাবে অভিরাম দাস (৬২) ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী শ্যামলী দাস বছরের পর বছর বসবাস করছেন এক টুকরো পলিথিন মোড়ানো ছাউনি ঘরে—যা একটুখানি বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় কাঁদাজলে। মানবেতর জীবন, নেই সরকারি কোনো সহায়তা, এমনকি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও নেই।রবিবার (১ লা জুন) দুপুর ১২ ঘটিকায় সরেজমিনে ওই দম্পতির বাড়িতে যান ভূঞাপুরের ইউএনও মো. আবু আবদুল্লাহ খান। তিনি অভিরাম-শ্যামলী দম্পতির খোঁজখবর নেন, তাদের জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসামগ্রী ও একটি নতুন ঘরের আশ্বাসও দেন।এদিকে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের আগ তেরিল্যা গ্রামের শিহাব উদ্দিনের মানবেতর জীবন যাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই চোখ পড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিহাব উদ্দিনের বাড়ি আগতেরিল্যা পরিদর্শনে যান। সরেজমিনে তার বেহাল চিত্র দেখেন এবং তাকে তাৎক্ষণিক খাবার সহায়তা করেন। শিহাব উদ্দিনের সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্বও নেন তিনি। তাকে একটি স্থায়ীভাবে আয় রোজগার করার জন্য সহযোগিতা ও একটি ঘর তৈরির উপকরণ সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রবি, ইবরাহীম খাঁর আলোকিত ভূঞাপুর গ্রুপের সভাপতি কামরান পারভেজ ইভান উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অভিরাম-শ্যামলী দম্পতি এবং শিহাব উদ্দিনের দুর্দশার চিত্র আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা দ্রুত তাদের থাকার জন্য টিন বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পাশাপাশি, তাদের জন্য অন্যান্য সহায়তার বিষয়েও কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য, এই দুটি পরিবার যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।’ইউএনও মো. আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘রাষ্ট্রের একেকটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রের সন্তান। আর একজন সন্তান যদি জরাজীর্ণ ঘরে কষ্টে দিন কাটায়, তবে সেটি আমাদের সবার জন্য লজ্জার। অভিরাম-শ্যামলী দম্পতি এবং শিহাব উদ্দিনের পরিস্থিতি দেখে আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে তাদের কাছে এসেছি। শুধু একবার খোঁজ নিয়ে চলে যাওয়া নয়, আমি চাচ্ছি তারা যেন টেকসই সহায়তা পায়। এই মানুষগুলো রাষ্ট্রেরই নাগরিক। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমরা চেষ্টা করছি অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে।’এই ধরনের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রশাসনের কর্তব্য। কিন্তু আমি চাই, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরাও যেন এই দায়িত্ব ভাগ করে নেয়।এ সময় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান, ইউ পি সদস্য ছালাম উপস্থিত ছিলেন।অভিরাম দাস এবং শিহাব উদ্দিন কৃতজ্ঞতায় বলেন, ‘অনেকেই আসেন ছবি তুলে যান, কেউ ফিরে তাকান না। ইউএনও স্যারের মতো মানুষই আমাদের শেষ ভরসা।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
