চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার কারণে উচ্ছেদ হয়ে বৈরাগ ইউনিয়নের বদুলপুরা গ্রামে আশ্রয় নেয় প্রায় ১৭০টি পরিবার। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছেন।সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে মাঝারি ও ভারি বর্ষণের কারণে যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানিসহ হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আশপাশের বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বদুলপুরা গ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের চলাচলের রাস্তার একপাশে ইতোমধ্যেই পাহাড় ধসে পড়েছে। উক্ত এলাকায় প্রায় ১৭০টি পরিবারের সহস্রাধিক লোকের বসবাস, যার একটি বড় অংশই সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মরজিনা আক্তার নামের এক বাসিন্দা জানান, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে অনেকগুলো পরিবার এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় মেম্বার এসে মাইকিং করে সতর্ক করে গেছেন। কিন্তু বিকল্প বাসস্থান না থাকায় আমরা কোথায় যাব?’স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ইয়াকুব বলেন, ‘বৃষ্টি পড়লে জনপ্রতিনিধিরা এসে দেখে যায়, কিন্তু আমাদের থাকার তো আর অন্য কোনো জায়গা নাই।’এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘বদুলপুরা গ্রামে যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, তারা দীর্ঘ একযুগের বেশি সময় ধরে এভাবে দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির সময় আমি প্রতিদিন তাদের খোঁজ নিচ্ছি এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে যাচ্ছি।’আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে আমি স্থানীয় মেম্বার ও দফাদারদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে তারা আজই এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করেন। আমি খুব শীঘ্রই নিজে এলাকাগুলো পরিদর্শনে যাব। যদিও এ এলাকায় পূর্বে কখনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি, তারপরও আমরা সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পাহাড় সংলগ্ন বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি।’ এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
