টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে উঠেছে শঙ্খনদী। নদীর পানিপ্রবাহ বিপদসীমার কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। পানির গতি এতটাই তীব্র যে, নদীর দু’পাড়ে বসবাসরত মানুষজন ভয়ে প্রহর গুনছে—কখন পানির স্রোত ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।সাতকানিয়ার পূর্ব কাটগড় কালিয়াইশের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘শঙ্খ তো প্রতি বছরই খ্যাপা হয়ে উঠে। এবারও মনে হচ্ছে ভয়াবহ হতে যাচ্ছে।’সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে—পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এসে শঙ্খকে ক্রমাগত ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে। নদীর বুক দিয়ে যেন বয়ে যাচ্ছে ভয়াল গর্জন। কেবল নদী নয়, উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে কৃষিজমিগুলো পড়েছে সবচেয়ে বড় হুমকিতে। নিচু এলাকার অধিকাংশ সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা, দুর্ভোগে পড়ছেন দিনমজুর শ্রেণির পরিবারগুলো।শঙ্খচরের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ‘বৃষ্টি আর ঢলে শঙ্খের পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। নিচু চরের সবজি ক্ষেতগুলো পানির কিনারায় চলে এসেছে। একটু আর বাড়লেই শেষ। অনেক ক্ষেত তো এখনই ডুবো ডুবো।’নদী পাড়ের মানুষ বলছে, এ দৃশ্য তাদের কাছে নতুন নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। শঙ্খ নদীর পাড়ে স্থায়ী বাঁধ কিংবা সঠিক নিকাশী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এভাবেই বানভাসি হতে হয় তাদের।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’তবে বৃষ্টি বন্ধ না হলে এবং ঢলের গতি না কমলে যে ২০২৩ সালের মতো বড় বন্যা সাতকানিয়াকে গ্রাস করতে পারে, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় কেউই।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
