আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক পশু। জেলার ছয়টি উপজেলায় ৮১ হাজার ৮৭৫টি পশু প্রস্তুত করেছেন ৬ হাজার ২৭২ জন খামারি। অথচ জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র ৬৯ হাজার ৭৭০টি। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলাতে সরবরাহের পরিকল্পনা করছেন খামারিরা।জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে গজারিয়া উপজেলায়, যেখানে ২৫ হাজার ৩৫১টি পশু প্রস্তুত থাকলেও স্থানীয় চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০টির মতো। অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে টঙ্গীবাড়ি, শ্রীনগর, সদর, সিরাজদিখান ও লৌহজংয়েও রয়েছে উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্ত।রশুনিয়া ইউনিয়নের ফাহাদ এগ্রো ফার্মের মালিক অহিদুল ইসলাম জানান, ‘২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে খামার শুরু করি। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১০টি অস্ট্রেলিয়ান ক্রস জাতের গরু, যেগুলোর দাম ১ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। গত বছর ৫৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার ওজন বেশি হওয়ায় লাভ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’রাহাত এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী তুহিন আহমেদ হৃদয় বলেন, ‘২০১৮ সালে মাত্র ২টি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করি। ২০২২ সালে ৮টি গরু বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ করি। বর্তমানে খামারে রয়েছে ২৬টি গরু, যার মধ্যে ১৫টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত। আমরা ইনজেকশনমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু বিক্রিতে বিশ্বাস করি। শুধু লাভ নয়, আমরা মানুষের আস্থাই অর্জন করতে চাই।’গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের খামারি ইউনুস আলী বলেন, ‘আমার খামারে বেড়ে উঠেছে বড় ষাঁড়, তার নাম রাজাবাবু। দেশীয় প্রক্রিয়ায় লালন-পালন করা এই ষাঁড়ের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট, উচ্চতা ৮ ফুট এবং ওজন প্রায় ১৫ মণ (৬০০ কেজি)।’ইউনুস আলী বলেন, ‘রাজাবাবু আমার নিজের গাভীর বাছুর। ছোটবেলা থেকেই যত্ন করে বড় করেছি। প্রতিদিন খাওয়াই কাঁচা কলা, গাজর, কখনো আপেলও। দিনে দুই-তিনবার গোসল করাই। এখন খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তাই এবার কোরবানিতে বিক্রি করব। আশা করছি ৭ লাখ টাকা দাম উঠবে।’তিনি জানান, ‘রাজাবাবুকে লালন-পালনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে তার প্রতি ভালোবাসা টাকার হিসাব ছাড়িয়ে গেছে।’খামারিরা জানান, চাহিদার তুলনায় পশু বেশি হওয়ায় একদিকে ক্রেতারা পাচ্ছেন পছন্দমতো পশু বাছাইয়ের সুযোগ, অন্যদিকে খামারিরাও আশাবাদী, বছরের পরিশ্রম এবার ভালো দাম বয়ে আনবে। প্রশাসনের সঠিক তদারকি থাকলে নিরাপদ পশু বাণিজ্যে আরও গতি আসবে।জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ‘চাহিদার তুলনায় এবার জেলার পশু প্রস্তুতির পরিমাণ বেশি। জেলার ৩৯টি কোরবানির হাটে মোবাইল ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। স্বাস্থ্যবান ও ইনজেকশনমুক্ত পশু নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
