ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়েছে। এতে করে ফতেহপুরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের হাজারো মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে সাঁকোটি নির্মাণ ও সংস্কার করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত চাপের ফলে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এতে করে ওই এলাকার শিক্ষার্থী, রোগী, বয়স্ক এবং গর্ভবতী নারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘এই সাঁকো দিয়েই আমরা নবীনগর সদরে যাতায়াত করি। বাচ্চাদেরও স্কুলে পাঠানোই কঠিন হয়ে গেছে।’একই গ্রামের শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।’স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁকোটি ফতেহপুরসহ সাতটি গ্রামের মানুষের মূল যাতায়াতপথ। এটি ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও মালামাল পরিবহন করতে পারছেন না।তারা আরো বলেন, ‘জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে এখন বিকল্প কোনো উপায় নেই। অ্যাম্বুলেন্স তো যেতে পারে না, আবার নৌকা মিলতেও দেরি হয়।’বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে একটি স্থায়ী পাকা সেতুর দাবি জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়নের মুখ দেখেননি তারা।এ বিষয়ে পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সফর আলী বলেন, ‘এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আমরা জানি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। স্থায়ী সেতু নির্মাণে আমরা বারবার আবেদন করেছি।’এলাকাবাসী বলছেন, শুধু একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন তাদের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত একটি টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
