নেত্রকোনার বারহাট্টায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী মুক্তি রানী বর্মণ হত্যা মামলায় কাওসার মিয়াকে (১৮) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকালে এ রায় দেন জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান। রায়ে সন্তুষ্ট নিহতের পরিবারসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন বাবা-মা।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আবুল হাসেম এবং আসামীর পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট দেলুয়ারা বেগম।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলার বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর গ্রামে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গত ২০২৩ সালের ২ মে ছালিপুড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীসহ অন্যান্যদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পথরোধ করে প্রকাশ্যে দিবালোকের দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে একই এলাকার শামছুদ্দীনের ছেলে মো. কাওসার মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো একই এলাকার জেলে নিখিল চন্দ্র বর্মণের মেয়ে প্রেমনগর ছালিপুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তি রানী বর্মণকে। কিন্তু মুক্তি বখাটে কাওসারের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে ২০২৩ সালের ২ মে বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে পিছন থেকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে দ্রুত বারহাট্টা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে ওই দিন রাতেই মুক্তির মৃত্যু হয়। পরে বাবা বাদী হয়ে তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কাওসারকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে আসামির উপস্থিতিতে আদালতের বিচারক এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবুল হাসেম জানান, মামলা দুই বছরের মধ্যে এরকম একটি রায় হওয়ায় তাদের বিচার প্রত্যাশীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে। আর এমন একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় এত দ্রুত হওয়ায় আমরাও খুশি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
