বকেয়া পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউটে (নিকডু) ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ রেখেছে ভারতীয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্যানডর।পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল থেকেই বন্ধ আছে ডায়ালাইসিস সেবা। সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের চোখেমুখে রয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ। কিডনি ডায়ালাইসিস চিকিৎসা ব্যয়বহুল। কিডনি ইনস্টিটিউটে বাইরের চেয়ে কম খরচে ডায়ালাইসিস করা যায় তাই এই হাসপাতালে বাড়তি রোগীর চাপও রয়েছে।এর আগে, গতকাল সোমবার একই দাবিতে ৩ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছিলেন স্যানডরের কর্মীরা। তারা জানান, সরকারের কাছে তাদের সাড়ে ৭ কোটি টাকা বাকি রয়েছে। টাকা না পাওয়ায় তিন মাস ধরে বেতন হচ্ছে না। বেতন না পাওয়ায় নার্স টেকনোলজিস্টরা আর কাজ করতে চাচ্ছে না। সামনে ঈদ, কর্মদিবস কম আছে, বেতনের আশ্বাস না পেয়ে কেউই কাজে যাচ্ছে না বলে জানান তারা।স্যানডর কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাভাবিক সময়ে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বকেয়া বিল দেয়া হয়। কিন্তু ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মীদের বেতনের পাশাপাশি ডায়ালাইজার কিনতেও সমস্যা হচ্ছে। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তবে বিল আটকে যাওয়ার এমন জটিলতা নতুন কিছু নয়। বিগত সময়ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের অভাবে বহুবার ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যায়।ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি হাসপাতালে সেবা দিচ্ছে স্যানডোর। মোট ডায়ালাইসিসের ১০ শতাংশ করে তারা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যানডোরের ২টি সেন্টার মিলে ২০০ মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৭০টি। জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যানডোরের দুই সেন্টার মিলে ২০০ কর্মী আছে। ঢাকায় ১৩০ জন কর্মী। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজারের মতো মানুষের ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। মাত্র ১০ হাজার মানুষ এই সুযোগ পান। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজিস্টদের সম্প্রতি করা এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী ডায়ালাইসিস করতে পারেন না।ডায়ালাইসিস শুরু করে ৯০ শতাংশ রোগী অর্থাভাবে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এসব রোগীর প্রায় ৫০ শতাংশ ২ বছরের মধ্যে মারা যান। ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীর মাত্র ১ শতাংশ কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ পান।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
