প্রতিটি সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন ও সময়মতো সেবা দেওয়া। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও বাস্তব চিত্র অনেক সময়ই এর সঙ্গে মিল খায় না। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় রবিবার (২৫ মে) সকালে বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেল, ঠিক ৯টায় অফিস খুললেও অধিকাংশ দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখনও অনুপস্থিত।মৎস অফিস, সমাজ সেবা অফিস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের চিত্র একই রকম। অফিস খোলা-কিন্তু মূল কর্মকর্তাদের কেউ নেই। একজন অফিস সহায়ক বা পিয়ন হয়তো দরজা খুলে বসে আছেন, কিন্তু যাঁদের মাধ্যমে সরকারি সেবা কার্যকর হওয়ার কথা, তাঁরা তখনও এসে পৌঁছাননি।এমন অবস্থায় সাধারণ নাগরিক অফিসে এসে ঠিক সেবা পাবে কীভাবে? হয়রানি, দৌড়ঝাঁপ আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার যন্ত্রণা তো থেকেই যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ দূরদূরান্ত থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসে, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যেতে হয়। এতে শুধু তার সময় নয়, হয়তো দিনভর কাজটাই ব্যর্থ হয়ে যায়।সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা কোনো অপশন নয়, এটা একটি বাধ্যবাধকতা। একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে অনুপস্থিতি পুরো দপ্তরের কর্মপ্রবাহ ব্যাহত করে। নাগরিকের আস্থা দুর্বল হয়। ‘সরকারি অফিসে গেলে ঝামেলা হয়,’ এই নেতিবাচক ধারণা আরও পোক্ত হয়। তবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হ্যাপী দাস বিষয়টি নিয়ে সচেতন এবং সক্রিয়। তিনি বলেন, “সরকারি সেবা নিশ্চিতে সময়মতো অফিসে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করছি। কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলবে।”তিনি আরও বলেন, “সেবাপ্রার্থী যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সময়নিষ্ঠ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”এই বক্তব্য আশ্বস্ত করে। তবে শুধু বক্তব্য নয়, দরকার কার্যকর পদক্ষেপ। নিয়মিত মনিটরিং, উপস্থিতির রেকর্ড যাচাই এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ এসব নিশ্চিত না হলে সময়ানুবর্তিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তাছাড়া সরকারি অফিসে কেবল দরজা খোলা থাকলেই হবে না, ভেতরে থাকতে হবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, থাকতে হবে কাজের সদিচ্ছা। কারণ, নাগরিক সেবা বিলম্বিত মানেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা। আর এই ব্যর্থতার দায় ব্যক্তিগত নয়-পুরো ব্যবস্থার ওপর পড়ে।আজকের প্রশাসন যদি সত্যিই জনবান্ধব হতে চায়, তবে সবার আগে প্রয়োজন নিজস্ব নিয়ম-কানুন মেনে চলার কঠোরতা। সময়মতো উপস্থিত থাকা তার প্রথম ধাপ। কেননা, সময়মতো কর্মকর্তা না এলে সেবা দেবে কে?এমআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
