মঞ্চে অতিথি, দর্শক সারিতে অভিভাবক এবং কোমলমতি শিক্ষার্থী উপস্থিত। মধ্যমনি হিসাবে উপস্থিত আছেন বিদায়ী শিক্ষক মোঃ আবদুন নূর। এ যেন অন্যরকম এক পরিবেশ। অতিথি, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে একদম নিস্তব্ধ, নিথর, সুনসান নীরবতা। সবার চোখ জলে টলমল। অশ্রুসিক্ত নয়নে বিষাদের ছায়া নেমেছে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে। কারণ, আজ প্রিয় শিক্ষকের বিদায়, তাই বিমর্ষ, মনমরা, করুণ চাহনি চারদিকে।মঙ্গলবার (২০ মে) এমন দৃশ্যেরই অবতারণ হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার নিদারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠনে। বিকাল ৪ টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এর আনুষ্ঠানিকতা। অত্র বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আবদুন নূরের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ ও সহকারি শিক্ষক আক্রাম শাহ এর যৌথ সঞ্চলনায় ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জোহা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বর্ণজিৎ চন্দ্র দেব।বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান, নুরুল ইসলাম মাস্টার, নাছির উদ্দিন, মোর্শেদ কামাল, সাংবাদিক এস এম জহিরুল আলম চৌধুরী টিপু, আবদুল আহাদ মাস্টার, জহিরুল ইসলাম সুজন, প্রমুখ। বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক আবদুন নূর। জানা গেছে, ৩৭ বছর ৭ মাস ৫দিন চাকরি জীবন শেষ করে গত ১৯ মে নিদারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান এই প্রিয় শিক্ষক। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উনাকে বিদায় জানানো হয়। তিনি ১৯৮৭ সালের ১৪ অক্টোবর শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। তিনি অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক কুতি শিক্ষার্থী ছিলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন- ‘ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ; দেখি আর শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না..’। ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ নিয়েই বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক আবদুন নূর। অশ্রুসজল নয়নে শিক্ষার্থীরা তাকিয়ে ছিলেন প্রিয় শিক্ষাগুরুর প্রতি। যেন চোখের ভাষাতেই প্রকাশ করছিলেন তাদের মনের আবেগ, অনুভূতি ও প্রিয় শিক্ষাগুরুর প্রতি ভালোবাসাকে। অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি, অভিভাবক ও উক্ত বিদ্যালয়ের বর্তমান ৫ জন শিক্ষকই এই বিদায়ী শিক্ষকের ছাত্র। সচরাচর এমন বিদায় দেখা যায়না। বক্তারা বলেন, তিনি সমগ্র জীবনে অনেক স্কুলে তার আলো ছড়িয়েছেন। কখনও অভিভাবক, কখন শিক্ষক আবারও কখনও বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। দিয়েছেন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভালোবাসা। এমন শিক্ষকের বিদায়ে সবাই মর্মাহত, এটাই স্বাভাবিক। আজকের আবেগঘন এই পরিবেশ বলে দেয় তিনি (আবদুন নুর) কতটা সফল ছিলেন। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা অসংখ্য ফুল, ক্রেস্ট, নানা উপহার তুলে দেয় বিদায়ী প্রিয় শিক্ষকের হাতে। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
