পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে মৌসুমি ফল কাঁঠালের ভরা মৌসুম যাচ্ছে এখন। চারদিকে এখন দেশীয় ফল কাঁঠালের সুমিষ্ট ঘ্রাণে ম-ম করছে প্রতিটি হাট বাজার। মৌসুমের প্রথম থেকেই গ্রামের মানুষ বাড়ির চারপাশে বেড়ে উঠা কাঁঠালের বাগান থেকে সংগ্রহ করেন জাতীয় ফল কাঁঠাল। পরে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন স্থানীয় হাট গুলোতে। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে কাঁঠাল হাট বাজারে আসা শুরু করে ঐসময় দাম কিছুটা বাড়তি পাওয়া যায় বলে আগাম বিক্রিতে বেশ আগ্রহী এখানকার স্থানীয়রা। বৈশাখ -জৈষ্ঠ্যমাসে দেশে সব রকম মৌসুমি ফলফলাদির ভরা মৌসুম অতিবাহিত হয়ে থাকে তবে,কাঁঠালের চাহিদা বাড়ে বহুগুণ।খাগড়াছড়িতে কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত কয়েকটি হাট রয়েছে।এগুলোর মধ্যে রামগড়, গুইমারা ও মাটিরাঙা পাহাড়ি কাঁঠালের জন্য বরাবরই বিখ্যাত। তার মধ্যে সাপ্তাহিক রামগড় হাট বসে প্রতি রবিবার ও বুধবার। এই বাজারে সকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়,স্থানীয় রামগড় বাজারের সড়কের পাশে সারি সারি ভাবে কাঁঠালের স্তুপ, অন্যদিকে অনেক গুলো গাড়ি অপেক্ষায় থাকে কাঁঠাল পুরানোর জন্য যা চলে যায় দেশের বিভিন্ন শহরে। খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি কাঁঠালের বড় বাজার তৈরি হয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্জল ঘিরে। এসব জেলায়পরিবেশগত কারণে কাঁঠালের ফলন তেমন ভালো না হওয়ায় সবাই ছুটেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। নোয়াখালীর পাইকার আইয়ুব জানান, প্রথম কাঁঠালের চালান নিতে আসছি, পাঁচ হাজার কেনেছি দেখা যাক আবারও আসা হবে। কেমন দামে কিনলেন প্রশ্ন করায় জানান, এখানে কমদামে কাঁঠাল কিতে পেরেছি প্রতিটা ৫০ টাকা পড়ছে, নোয়াখালীতে ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে আশা করি। জমজমাট বেচাকেনার মহর্তে স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি মৌসুমে কাঁঠালের ব্যবসা করি প্রতি সপ্তাহে রামগড় থেকে প্রায় ১০-১৫ হাজার কাঁঠাল বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,২০ কেজির কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। ছোট সাইজের দাম একদম কম ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ষাটোর্ধ বৃদ্ধ স্থানীয় কাঁঠাল ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া বলেন, এই বছর কাঁঠালের দাম খুব কমে গেছে মনে হয় গৃহস্থ বাজারে আর কাঁঠাল আনবেন না।পাইকারি কেনায় শহরে যেতে প্রতিটি কাঁঠালের খরচ সম্পর্কে তিনি জানান, লেবার খরচ ২টা, পৌরসভার কর ২ টাকা, গাড়ি ভাড়া ১০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। এতে করে বেশি লাভবান বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা। রামগড় বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, খাগড়াছড়ির কাঁঠাল সারাদেশে পরিচিত, যে কাঁঠাল রামগড়ে বিক্রি হয় ৩০-৪০ টাকা সেই কাঁঠাল শহরে দুইগুণ তিন দামে বিক্রি হয়, সত্যি বলতে স্থানীয় বাজারে দাম একেবারে কম থাকায় গ্রামের বাগান মালিকরা খুবই হতাশ, মনে হয় আগামীতে কাঁঠাল উৎপাদন আরো কমে যাবে। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
