যশোরে ৩ বছরের শিশু খাদিজা খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের তরফসিংহ গ্রামে সৎ পিতার বাড়িতে তার মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পিতা হেলালের অভিযোগ, সামিয়া খাতুন সুখে সংসার করতে শিশু কন্যা খাদিজাকে হত্যা করেছে। শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ৪ বছর আগে মণিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মাসনা হেলালের সাথে সামিয়া খাতুনের বিয়ে হয়েছিলো। দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে কয়েক মাস আগে তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। দুই মাস আগে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের তরফ সিংহ গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে সামিয়ার বিয়ে হয়। ৩ বছরের শিশু খাদিজা মায়ের সাথে সৎ পিতার বাড়িতে থাকতো। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত ৮ টার দিকে সেখানে খাদিজার মৃত্যু হয়। নিহতের পিতা হেলালের অভিযোগ, দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে সামিয়া খাতুনের কাটা ছিলো শিশু কন্যা খাদিজা৷ এজন্য সামিয়া তাকে কৌশলে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে অসুস্থ হয়ে তার মেয়ে মারা গেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন। এদিকে, সামিয়া খাতুন দাবি করেছেন, কয়েকদিন ধরে খাদিজা অসুস্থ ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ খাদিজা মারা যায়৷ পরে খালা সোনিয়ার মাধ্যমে হেলালকে মেয়ের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। মেয়েকে হত্যার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, শিশু খাদিজার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া নিহতের পিতা হেলালের অভিযোগ তার সাবেক স্ত্রী সামিয়া মেয়েকে হত্যা করেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
