পবনার ঈশ্বরদীতে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রপচারে মোছাঃ সেতু খাতুন নামে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার(১৩ মে) রাতে পৌর শহরের আকলিমা সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওই প্রসূতি নারীর ডেলিভারি অস্ত্রপচার সম্পন্ন করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হলে “টক অফ দ্যা টাউনে” পরিনত হয়। ভুল অস্ত্রপচারে নিহত সেতু খাতুন লালপুর উপজেলার গৌরিপুরের নুরুল্লাহপুর গ্রামের মোঃ নাহিদ হোসেনের স্ত্রী।জানা গেছে, অন্তঃসত্বা অবস্থায় ঈশ্বরদীর মাঝদিয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন সেতু খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তার প্রসব বেদনা নিয়ে আকলিমা সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হলে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ওই ক্লিনিকের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাবেয়া বসরী ডেলিভারি অস্ত্রপচার করেন। পরে সন্ধার দিকে অস্ত্রপচার করা ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তপাত হলে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে কয়েকঘন্টা কালক্ষেপনের পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পরে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে সেতু খাতুনের মৃত্যু হয়।এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহত সেতু খাতুনের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন ভুল অস্ত্রপচারে জরায়ুর নাড়ী কেটে ফেলেছেন চিকিৎসক যার কারনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে তার মৃত্যু হয়েছে।নিহত সেতু খাতুনের বড়বোন সুমি খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের অপারেশন করার পর থেকে পেটের ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছিল। পরে আমার বোনের অবস্থা খারাপ দেখে রাজশাহী নেওয়ার কথা বল্লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিতে নিষেধ করেন। এভাবে কয়েকঘন্টা পার হওয়ার পর যখন আমার বোন পুরো অচেতন অবস্থার ব্যপক অবনতি হয় তখন হাসপাতালের লোকজনই তড়িঘড়ি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। সেখানে আমার বোন মারা গেছে। তারা ভুল অপারেশন করে যেকোন একটি নাড়ী কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুল চিকিৎসার কারনে ওই ক্লিনিকে এর আগেও কয়েকজন মারা গেছে। আজ সেতু খাতুন মারা গেল। এর কঠিনতম বিচার দাবি করছি। এদিকে আকলিমা সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বরত ওই চিকিৎসক রাবেয়া বসরী ভুল অস্ত্রপচারের অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা এমন কোন বিষয় ছিলনা। হটাৎ করে রোগীর ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি দেখে আমরা সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
